আমাদের জীবনে প্রাণীজ আমিষে গরুর মাংস সহজাত। গরুর মাংসের প্রতি দুর্বলতা ব্যাপক। প্রতিটি উৎসবে গরু ছাড়া যেন জমেই না।আর কোরবানি ঈদ হলে তো কথাই নেই।
আমরা সকলেই খুবই আনন্দে পালা পার্বণে পরিবারের সবাইকে নিয়ে গরুর মাংসে ভূরিভোজ করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলি। শিশুদের মুখে তুলে দেই মাংসের নানা পদ। কিন্তু আমরা কি জানি ! নিজেদের অজান্তেই হয়ত শিশুদের মুখে তুলে দিচ্ছি বিষাক্ত খাবার। শুধু বাইরে থেকেই না, এই বিষাক্ততা আসতে পারে গরুর প্রতিপালন থেকেই। যেভাবে আমরা গরু থেকে মাংস উৎপাদন করি তাই বুমেরাং হয়ে ফিরতে পারে।
গরু মোটাতাজা করতে গিয়ে বিষাক্ত ইউরিয়ার যথেচ্ছ ব্যবহার এখন পুরানো হয়ে গেছে। আরো আছে স্টেরয়েড, হরমোন সহ নানা ঔষধদের অপব্যবহার। আমরা জানি না ক্যাটল ফিড যা খাওয়াচ্ছি আসলে তা কতটা নিরাপদ? যেখানে মানুষেরা সামান্য স্বার্থের মোহে বিবেক বিক্রি করে স্বজাতীয় মানুষের মুখে তুলে দিচ্ছে বিষাক্ত খাবার সেখানে এই অসহায় ভাষাহীন প্রানিকূল যে কতটা নিষিদ্ধ খাবার খায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। গরু বেচারা ভেজাল খাবার খেয়ে মোটা তাজা হলে হোক আমাদের কি? যদি মনে প্রশ্ন যাগে তাহলে জেনে নিন গরু মহাশয় কে ভক্ষন করে প্রকারন্তরে আপনি নিজেই পরক্ষ বিষের শিকার হলেন। ভয়ংকর ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেলেন।
এখানকার আরেক প্রতারণা হচ্ছে গরু কে পোল্ট্রি ফিড খাওয়ানো। বেচারা ব্রয়লার মুরগি কই খেয়ে পড়ে তর তাজা হবে তা না আমরা অবলীইয় গরুর স্বাস্থ্য ভালো করার জন্য দিয়ে দিচ্ছি এই খাবার।
দুধও বের হয়, মাংসও বিকোয় কি আসাধারন প্রতিভা! আমরা নির্লজ্জভাবে বিষাক্ত করে ফেলছি গরুর মাংস ও দুধ। এই পোল্ট্রি ফিডের বীজাণু জমা হচ্ছে গরুর ভেতর। এর ফলাফল কতটা মারাক্তক হতে পারে এ ব্যাপারে না আছে আমাদের কোন ধারণা, না আছে সামান্য গবেষণা? এই এখন পর্যন্ত কোন পত্রিকায় বা টিভিতে এ নিয়ে কোন রিপোর্টও জানা নেই। আপনারা কেউ কি একটু জানাতে পারেন আমাদের ?
আর মাংস বিক্রি করতে গিয়ে করতে গিয়ে আমরা গরুর মাংসে পানি দিতে থাকি দিতেই থাকি, এই পানি মাংসকে রাখে তরতাজা। নইলে মাংস বেচারা তো শুকিয়ে যাবে . .আমদের জানা থাকার কথা না, এই পানি মাংস থেকে সাধারণত আর বের হয় না, ওজন বাড়িয়ে দেয়। ফলে কেজিতে ১০০-১৫০ গ্রাম মাংসের সাথে পানি কিনে আনি। হাড্ডি, চর্বি আর অনন্যা অংশ তো রইলই।
পরিশেষে মাংসের সব দুষন রান্না করে/ আগুনে পোড়ালেও দূর হয় না। বিষাক্ততা রয়েই যায়। আর বিষাক্ত গরুর মাংস স্লো পয়জনিং এ ঘটাতে পারে ভয়ংকর বিপদ। করতে পারে কিডনি বিকল, পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা, নানাবিধ জটিল রোগ। উপরি হিসাবে রইল ক্যানসার সহ নিশ্চিত মৃত্যু!
এখনও সময় আছে, আসুন সতর্ক হই। আমাদের সচেতনতাই হতে পারে একমাত্র রক্ষাকবচ।
ধন্যবাদ।
- adminhttps://myorganicbd.com/author/admin/
- adminhttps://myorganicbd.com/author/admin/
- adminhttps://myorganicbd.com/author/admin/
- adminhttps://myorganicbd.com/author/admin/


