কালোজিরা

 

আপনি কি জানেন, কালোজিরা কি? কালোজিরা তেলের উপকারিতা, কালোজিরা বানানোর ও খাওয়ার নিয়ম? এই তেলে আছে প্রায় ২১ শতাংশ আমিষ, ৩৮ শতাংশ শর্করা এবং ৩৫ শতাংশ ভেষজ তেল ও  ফ্যাট।

 

কালোজিরার উৎপত্তি

কালোজিরা একটি সপুষ্ক উদ্ভিদ জাতীয় ফলের অভ্যন্তরীণ বীজ। Ranunculaceae গোত্রের উদ্ভিদ হচ্ছে কালোজিরা । ইংরেজিতে কালোজিরা “Nijella seed” নামে পরিচিত এবং কালো জিরার তেল কে বলা হয় “Nijella Sativa Oil” । এর আদি নিবাস দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ গুলোতে।  তবে বর্তমানে কম-বেশি প্রায় দেশে কালোজিরা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে।

কালোজিরার গাছ আকার ও আয়তনে লম্বায় ২০-৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।  কালোজিরার গাছের ফুল ও ফল হয়ে থাকে। সাধারণত এর ফুলের রঙ সাদা ও হালকা নীলাভ বিশিষ্ট্ হয়ে থাকে। ফুল গুলোর পাঁচটি করে পাপড়ি থাকে। কালোজিরার এই ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। অপরদিকে কালোজিরার ফল গুলো শক্ত আবরণে বেষ্টিত থাকে ।  

কালোজিরার ফলে পুংকেশরের সংখ্যা অনেক। ফল গুলোর গর্ভকেশর বেশ লম্বা হয়। বাংলা কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে এর ফুল ফোটে এবং শীতকালে ফল ধরে। ফলের আকার গোলাকার এবং প্রতিটি ফলে ২০-২৫ টি বীজ থাকে।

এর বীজ গুলো কালো বর্ণের এবং আকৃতি প্রায় ত্রিকোণাকার। এর বীজগুলো একটি খোলসের ভিতরে থাকে। খোলসের ভিতরে অনেক বীজ থাকে।মূলত এই বীজ গুলোকে বলা হয় কালো জিরা।  এই বীজ গুলো থেকে কালো জিরার তেল উৎপাদন করা হয়।

 

কালোজিরা কি? কালোজিরা তেলের উপকারিতা, বানানো ও খাওয়ার নিয়ম

 

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন, “তোমরা কালোজিরা ব্যবহার করবে, কেননা এতে একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত সর্ব রোগের মুক্তি রয়েছে”। – তিরমিযি, বুখারি, মুসলিম।

নবী করিমের এই অমর বাণী আমরা সবাই জানি।

 

কালোজিরার তেলের পুষ্টিগুন

কালোজিরার তেলে ১০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে মানব দেহের জন্য। 

কালোজিরার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে নাইজেলোন, থাইমোকিনোন ও স্থায়ী তেল। এতে আরও রয়েছে আমিষ, শর্করা সহ ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড সমূহ ।

পাশাপাশি কালো জিরার  তেলে আছে লিনোলিক এসিড, অলিক এসিড, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-বি২, নিয়াসিন ও ভিটামিন-সি।

এই তেলের মধ্যে আরও  রয়েছে ফসফেট, লৌহ, ফসফরাস, কার্বো-হাইড্রেট ছাড়াও জীবাণু নাশকের বিভিন্ন উপাদান সমূহ। এতে রয়েছে ক্যন্সার প্রতিরোধক কেরোটিন ও শক্তিশালী হরমোন ও প্রস্রাব সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান সমূহ। এছাড়াও আরো রয়েছে এনজাইম ও অম্লনাশক উপাদান এবং অম্লরোগের প্রতিষেধক।

 

কালোজিরা তেলের উপকারিতা, বানানোর ও খাওয়ার নিয়ম

কালোজিরা তেলের উপকারিতা, বানানোর ও খাওয়ার নিয়ম

 

কালোজিরা তেলের প্রাচীন ব্যবহার

কালো জিরার ব্যবহার অনেক পুরানো। সৃষ্টির শুরুর আদিকাল  থেকে এখন পর্যন্ত কালো জিরা মসলা ও ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।  প্রাচীন ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, কালোজিরাকে মানব দেহের জন্য মহৌষধ মনে করা হত ।

প্রাচীন কাল থেকে এখন আয়ুর্বেদিক, ইউনানি ও কবিরাজি চিকিৎসাতে ও কালো জিরার তেল ব্যাপক ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ অষ্টম শতাব্দিতে কালো জিরার তেল দ্বারা ব্রনকাইটস ও ডায়রিয়ার চিকিৎসা করা হতো ।

 

মিসরীয় সভ্যতায় কালো জিরা

অ্যাসিরিয়া-বাসী গণ যারা ট্রাইগিস নদীর তীরে বাস করতেন। ১৯২৪ সালে ক্যাম্পবল থামসন নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়, সেখানে কালো জিরার তেল থেকে তৈরি ট্যাবলেট রোগ উপশমকারী হিসেবে ব্যবহার করতো । গ্রন্থটি থেকে আরও জানা যায় রূপচর্চা সহ প্রায় প্রতিটি রোগে কালো জিরার তেল ব্যবহার হতো।

মিশরীয় মমি গুলো থেকে প্রায় অনেক অজানা তথ্য জানা যায়। কালো জিরার তেল নিয়েও ঠিক তেমনি জানা যায়। তুতেনখামেনের মমি থেকে কালো জিরার তেল পাওয়া যায়। সাধারনত মিশরীয়রা পরজন্মে বিশ্বাসী ছিলেন।

তুতেনখামেনের মমির সাথে মধু ও কালো জিরা তেল পাওয়া যায়। মিশরীয় রানী নেফারটিটি থেকে ক্লিউপেট্রা তাদের সবাই রূপচর্চার একটা বিশাল অংশ জুড়ে ছিল কালো জিরার এই তেল।

খ্রিষ্ট পূর্ব ৫ শতকের দিকে কালো জিরার তেল ব্যবহার করা হতো সাপের কামড়ের বিষ নামাতে , এলার্জি , ত্বকের যে কোন সংক্রমণে , পুরাতন টিউমার সারাতে , যে কোন পোকা মাকড়ের কামড়ের ক্ষত সারাতে।

 

গ্রীক সভ্যতায় কালো জিরা

২০০০ বছঁর  আগে গ্রিক সভ্যতায় কালো জিরার তেল কে তখনকার বোদিগণ মাথা ব্যাথা সারাতে ,দাঁতের ব্যাথা কমাতে , মেয়েদের মাসিক জনিত সমস্যা দূর করতে, মাতৃ দুগ্ধ বৃদ্ধিতে কালো জিরার তেল ব্যবহার করা হতো।

 

মুসলিম সভ্যতায় কালোজিরা

মুসলিম পন্ডিত আল-বুরিনি তার লেখা একটি চিকিৎসা শাস্ততে কালো জিরার তেল কে বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যাখা দিয়েছেন। ১০ থেকে ১১ শতকের সময় গুলোতে কালো জিরার তেলকে শরীরের পুষ্টি যোগানের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতো।

 

কালোজিরার তেলের ব্যবহারের উপকারিতা

কালো জিরার তেল মূলত আমরা স্বাস্থ্য উপকারিতায় ও রূপচর্চায়  ব্যবহার করে থাকি। প্রাচীন কাল থেকে এখন ও পর্যন্ত কালো জিরার তেলের গুনের জন্য বিজ্ঞানের  আধুনিকতা ছোয়ায় আরও সহজ ও কার্যকরী ভাবে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।

 

স্বাস্থ্য উপকারিতা

স্বাস্থ্য উপকারিতায় কালো জিরার তেলের অনেক গুন। কালো জিরার তেলে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট ও এন্টি- ইনফালাম্যাটরি কমপ্লেক্স যা শরীরে বিভিন্ন রকম রোগের বংশবৃদ্ধিতে বাধা দেয়। যেমনঃ

১)ক্যান্সার প্রতিরোধে

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে কালো জিরা তেলের নিয়মিত ব্যবহার ব্রেইন ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সার সেল জন্মাতে বাধা দেয়। কালো জিরার তেলে থাকা থাইকিউমিন প্রোগ্রাম মূলত ক্যান্সার প্রতিà¦