অর্গানিক পন্য হচ্ছে কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদিত দ্রব্য যাতে মানুষের তৈরী রাসায়নিক সার, কীটনাশক ইত্যাদি ব্যাবহার করা হয় না। অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক বিষয়বস্তুর দিকে নজর দেওয়া হয়। অর্গানিক পন্য উৎপাদন করতে বা দ্রুত বৃদ্ধির জন্য কোন প্রকার গ্রোথ হরমোন এবং জিএমও (Genetically Modified Organism) ব্যবহার করা হয়না যার দরুন অর্গানিক ফসল প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠে।

অর্গানিক খাবারে কোন প্রকার ক্ষতিকর বস্তূর প্রভাব থাকে না, তাই অর্গানিক খাদ্য কে সর্বোচ্চ মানের প্রিমিয়াম খাদ্য বলা চলে। এখন বিশ্বের প্রায়সব দেশে অর্গানিক চাষাবাদের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে কেননা এতে যেমন সেরা ফসল পাওয়া যায় তেমন পরিবেশকে রাখে সম্পূর্ণ দূষনমুক্ত।

অর্গানিক চাষের বৈশিষ্ট্যঃ
• অর্গানিক ফসল চাষ করতে রাসায়নিক সার এর পরিবর্তে জৈব সার ব্যাবহার করা হয়,
• অর্গানিক ফসলকে ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ থেকে বাচাতে বিষাক্ত কীটনাশক এর পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। ফলে পণ্য ও পরিবেশে কোন ক্ষতিকর প্রভাব থাকে না।
• অর্গানিক ফসলে কোনভাবেই গ্রোথ হরমোন এবং জিএমও (Genetically Modified Organism) ব্যবহার করা হয়না।
অর্থাৎ অর্গানিক পন্য উৎপাদনে প্রকৃতি থেকে শুরু করে মানব দেহ পর্যন্ত কোন ক্ষতিকর প্রভাব নেই। প্রকৃতি ও মানুষের মেলবন্ধনে এই বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ। তাই অর্গানিক পন্য শরীরকে রাখে সুস্থ্যসবল, দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
আমরা একটি পরিসংখ্যান লক্ষ্য করলে দেখতে পাই যে বিশ্বে প্রতি ১২ জনের একজন ডায়বেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রতি সেকেন্ডে ৭ জন আক্রান্ত ব্যাক্তির মধ্যে এক জন মারা যাচ্ছে। অথচ দুই দশক আগেও ডায়াবেটিস এত মহামারী আকারে ছিল না। কারণ মানুষ প্রাকৃতিক চাষাবাদের উপর নির্ভরশীল ছিল। ক্যানসার থেকে শুরু করে অন্যান্য জটিল রোগের প্রকোপও কম ছিল।
আমাদের দেশে মানুষ বেশিলাভের আশায় চাষাবাদে রাসায়নিক সার, বিষাক্ত কীটনাশক, গ্রোথ হরমোন এর অতিরিক্ত ব্যবহার তো করছেই, তার উপর রয়েছে পণ্য উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের যথেচ্ছ প্রয়োগ। আর এসব পণ্য নামের বিষ যারা দীর্ঘ সময় ধরে গ্রহণ করে তারা একটা সময় নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়। যার মধ্যে লক্ষ্যনীয় রোগ হচ্ছে ক্যান্সার। বাংলাদেশে ১৫ লাখ ক্যন্সার রোগী আছে এবং প্রতিবছর নতুন করে দুই লাখ লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে বলছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্যান্সার গবেষনা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল।
বিষাক্ত খাবার ও পণ্য গ্রহণে অন্যান্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাগুলো হচ্ছেঃ
• তীব্র মাথাব্যাথা,
• কিছু দিন পর পর বমি বমি করা,
• ত্বক ও চোখের ভয়াবহ ক্ষতি,
• কর্মশক্তি কমে যাওয়া,
• স্মৃতিস্বল্পতা, পার্কিনসন রোগ আক্রান্ত হওয়া,
• গর্ভবতী মা ও শিশুর ক্ষতি হওয়া,
• বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম হওয়া এমনকি শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে,
প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যা,
• নারী ও পুরুষের সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডার।
কোন কোন কৃষি পণ্যতে কি ধরনের বিষাক্ত দ্রব্য মেশানো হয় আর খাবারের নামে আমারা যে বিষ খাচ্ছি তা নিয়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে পরবর্তীতে। আজ শুধু সংক্ষিপ্তভাবে আমারা এর ভয়াবহতা ও ফলাফল শেয়ার করলাম।
তাই সুস্থ্যসবল জীবনযাপনের জন্য অর্গানিক এবং নিরাপদ পণ্য ও খাবার ব্যবহার করুন। পোস্টটি দরকারি মনে করলে শেয়ার করুন সবার সাথে।
© all copyrights reserved MyOrganicbd.com