আমাদের দেশ হচ্ছে প্রাকৃতিক গুণে ভরা ভেষজ উদ্ভিদের আধার। যেদিকেই তাকান না কেনো সবখানেই পাবেন ভেষজ মহৌষধ। আমাদের দৈনদিন জীবনে দরকার এমন সব পুষ্টি যেগুলো পূরণ করতে পারে আমাদের বিভিন্ন ধরণের ঘাটতি। আমাদের হয়তো জানা নেই কি কি খাবার গুণ পাওয়া যায় কোন কোন ভেষজে। তাই আমাদের খুজে নিতে হয় বিভিন্ন ধরণের নাম। যদিও সব ভেষজের নাম জানা আমাদের সম্ভব হয় না। তাই আজ আপনাদের সামনে নিয়ে এলাম এক ভেষজ লতার নাম। এবং এই লতার নাম হচ্ছে স্পিরুলিনা।

পাকানো লতার নাম শুনেছেন? খাওয়া যায়? উ হুম! খাওয়া যায় তো আলবৎ। স্পিরুলিনা, এই এক ঔষধি লতায় যে কত রকমের গুণের পুষ্টি পাওয়া যায়। নীলাভ এই অতি ক্ষুদ্র শৈবালে আছে ৮০ শতাংশ প্রোটিন। আরো আছে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, শর্করা, ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৬ সহ অনেক কিছুর সমন্বয়ে পুষ্টি ভান্ডার এই স্পিরুলিনা। বুঝতেই পারছেন এই লতা কতো শতো গুণের ভান্ডার।

বলা হয়ে থাকে যে স্পিরুলিনার শরবত খেলে বাজার থেকে আর এনার্জি ড্রিঙ্ক কিনে খাওয়ার দরকার নেই। শুধু কি তাই? এই গুল্মের রয়েছে মহৌষধি গুণ। ট্যাবলেট, ক্যাপসুল বা তরল আকারে বাজারে পাওয়া এই ভেষজ শৈবালে রয়েছে ক্লান্তি দূর করার শক্তি। আছে উচ্চ রক্তচাপ, রাতকানা, পুষ্টিহীনতা, , আলসার, রক্তশুন্যতা, বাতের ব্যাথা কমানো, ডায়বেটিস, হেপাটাইটিস কমানোর এক অনন্য শক্তি।

বর্তমানে স্পিরুলিনাযুক্ত তরল পানীয় বা পাউরুটি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে যা খেয়ে আপনার দৈনন্দিন জীবনের শক্তি যোগাবে এই স্পিরুলিনা। বিভিন্ন ধরণের বেকারি পন্য- চকলেট, বিস্কুট ইত্যাদির সাথে যোগ করে ও খাওয়া যায়। ইদানীং অনেকেই চা নাস্তা,  রুটি, আলুভর্তা, নুডলস, শরবত, হালুয়া, টমেটো ভর্তা, আলু মাছের তরকারি ইত্যাদির সাথে যোগ করে খাওয়া যায় এই স্পিরুলিনা।

কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে সেই সময়ে শ্বেতসার জাতীয় খাদ্যের সাথে যোগ করে আমিষ, ভিটামিন এবং লৌহ সমৃদ্ধ করে তোলা যায় এই স্পিরুলিনা দিয়ে। আর্সেনিক রোগীদের ক্ষেত্রে গবেষকরা দেখেছেন এই স্পিরুলিনা দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৮ গ্রাম করে খাওয়ালে প্রায় দু মাসেই রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। প্রতি ১-৩ গ্রাম স্পিরুলিনায় পাওয়া যায় ১-৩ কেজির শাক সব্জির পুষ্টি।

যদিও বলা হয় যে বাজারে ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, পাউডার বা তরল আকারে পাওয়া যায় তারপরও বিশেষজ্ঞদের মতে এই স্পিরুলিনা খুব পরিমাণমত মেশাতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিএসসিআইআরের কাছ থেকে পদ্ধতি ইজারা নেয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করছে।