Description

মধ্য ভারতের বহুল উৎপাদিত একটি উদ্ভিদ শিকাকাই। চুল ও ত্বকের পরিচর্যায় প্রাচীন যুগ থেকেই এটি সমাদৃত হয়ে আসছে। এই উপমহাদেশের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই জানা যাবে যে আমাদের দেশের সংস্কৃতির সাথে কতটা গভীর ভাবে শিকাকাই জড়িয়ে আছে। ঝোপের মত দেখতে এই উদ্ভিদটির ফলসহ শেকড়, পাতা, বাকল সবকিছুই উপকারী  হিসাবে মানা হয়, তবে বিশেষ ভাবে এর ফলের ব্যবহারই সবথেকে বেশি।  বৈজ্ঞানিক ভাবে শিকাকায় Acacia concinna নামে পরিচিত। অত্যধিক গুণসমৃদ্ধ এই উদ্ভিদটি আমাদের দেশে প্রায় সব অঞ্চলেই পাওয়া যায়, খুব যত্নহীন পরিবেশে এবং বিনা কোন পরিচর্যাতেই এই উদ্ভিদটি দ্রুত বেড়ে উঠাতে পারে। এই উপমহাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ এর জন্য বিশেষ উপযোগী বলে মনে করা হয়।

ভেবে দেখেছেন কি প্রাচীন সময়ে যখন এতসব প্রসাধনীর ছড়াছড়ি ছিল না তখন মানুষ কি উপায়ে তাদের ত্বক বা চুলের পরিচর্যা করত? এই কথা তো আপনি চাইলেও অস্বীকার করতে পারবেন না যে আগের দিনের রাণী মহারাণীদের সৌন্দর্য বর্তমানের সেরা সুন্দরীদেরও হার মানাবে। তবে কি ছিল তাদের সৌন্দর্যের গোপন রহস্য? সত্যি বলতে তাদের এই সৌন্দর্যের কৃতিত্ব অনেকটায় দিতে হবে শিকাকাইকে। এর মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন ভিটামিন যেমন ভিটামিন- এ, ডি, কে, এবং ই ত্বক এবং চুল সুস্থ রাখতে রাখে উল্লেখযোগ্য অবদান। চুল পরিষ্কার করতে সাবান বা শ্যাম্পুর বিকল্প হিসাবে একে ব্যবহার করা যায়, সেক্ষেত্রে শিকাকায় ফল সারা রাত ভিজিয়ে রেখে তারপর গরম পানিতে ফুটিয়ে তার পানি ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা আপনি শিকাকায় গুঁড়াও পানিতে মিশিয়ে মাথার চুল এবং ত্বকে প্রয়োগ করতে পারেন। শিকাকায় চুল পড়া বন্ধ করতে বিশেষ উপযোগী, তাছাড়া নতুন চুল গজাতেও এটি সাহায্য করে। মাথার ত্বকের মরা চামড়া বা খুশকি সমস্য নিরাময় করতে একবার শিকাকাই যাচাই করে দেখতে পারেন, আমি নিশ্চিত আপনি নিরাশ হবেন না। অনেক সময় মাথার ত্বকে ফাঙ্গাসের আক্রমণে ফোঁড়া, ফুসকুড়ি, ব্রণ ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। শিকাকাই এই সকল আক্রমণ থেকে আপনাকে সুরক্ষিত রাখবে এবং চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করবে। চুল পাকা প্রতিরোধে এই ফলটি অতি কার্যকরী, তাছাড়া এটি চুল কালো করতেও ব্যবহার করা হয়। যারা অল্প বয়সে চুল পাকা সমস্যায় ভুগছেন তাদের নিয়মিত শিকাকাই ব্যবহার করা উচিৎ।

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও শিকাকায় সমান কার্যকরী। কেমিক্যাল যুক্ত সাবানে যে গুণাবলীর কথা বলে তা শুধু বিক্রি বাড়ানোর জন্য বিজ্ঞাপন ছাড়া আর কিছু নয়। কিন্তু, শিকাকাই এর মধ্যে নেই কোন ক্ষতিকর উপাদান, না আছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়। এটি ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করে একে অধিক উজ্জ্বল ও মোলায়েম করে তোলে। ত্বকে বিদ্যমান প্রাকৃতিক তেলের কোন প্রকার ক্ষতি না করে ত্বকের মসচারাইজার বাড়াতে সহায়তা করে। যেকোন পোড়া বা আঘাতপ্রাপ্ত জায়গায় শিকাকাই আর হেনার পেস্ট লাগালে উপকার পাবেন। যদি ত্বকে কোন প্রকার ব্যকটেরিয়া বা জীবাণুর সংক্রামণ হয় তবে শিকাকাই এর প্রয়োগে তার সমাধান পেতে পারেন।

শিকাকাই এর গুনের কোন শেষ নেই, তাইতো যারা পুরানো কিন্তু কার্যকরী প্রথায় বিশ্বাসী তারা চুল এবং ত্বকের যত্নে আজো বেছে নেন শিকাকাইকে। ঘন, কালো, মসৃণ, স্বাস্থ্য উজ্জ্বল চুল এবং পরিষ্কার সুন্দর ত্বক পেতে আপনিও নির্বাচন করতে পারেন শিকাকাইকে সাবানের বিকল্প হিসাবে।