তিলের তেল

তিল এক প্রকার ভোজ্য তেল বীজ । ভারতবর্ষ ও চীনে প্রাচীনকাল থেকেই তিলের চাষ করা হয়। সাধারণত  তিল বীজ পিষে এই তেল বের করা হয়। এশিয়ার ভারত সহ বর্তমানে মায়ানমার, চীন, ইথিওপীয়া, সুদান, উগান্ডা, নাইজেরিয়া ও সোমালিয়া। এক গবেষণায় দেখা গেছে,  ২০১০ সালে ৩.৮৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন উৎপাদিত হয়। তার মধ্যে মায়ানমার হচ্ছে সর্বাধিক তিল উৎপাদনকারী শীর্ষদেশ।

তিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান তেলবীজ। আমাদের দেশে সাধারণত তেলের জন্যই প্রধানত তিলের চাষ করা হয়। তিলের এই বীজ থেকে স্বাদহীন, বর্ণহীন ও খাদ্যোপযোগী তেল পাওয়া যায়। তিল আমরা দুই ধরনের দেখতে পাওয়া যায় । সাদা এবং কালো রঙের তিল বীজ। সাদা রঙের তিল বীজের আবরন পাতলা, নরম ও ক্রীম রঙের বিধায় খোসা না ছাড়িয়ে কারখানা বা বেকাররি গুলোতে ব্যবহার করা হয়। কালো বা সাদা দুই ধরনের বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়।

তিলের তেলের উপকারিতা

হলুদ বর্ণের তিলের রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। রান্নায়, ত্বকের যত্নে বা চুলের যত্নে তিলের তেলের কার্যকারিতা অনেক। তিলের তেলে রয়েছে ভিটামিন – বি কমপ্লেক্স, ই,  ডি এবং মিনারেলস্, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন। যা আমাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে।

স্বাস্থ্যের যত্নে তিলের তেল

প্রাচীনকাল থেকেই স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী তিলের তেল। উচ্চ রক্তচাপ কমাতে তিলের তেল বিশেষ ভাবে কার্যকর। কারন রক্তে থাকা সোডিয়ামের লেভেল নিয়ন্ত্রণ সাহায্য করে। আমেরিকার এক গবেষণায় দেখা গেছে, বেশ কয়েক জন উচ্চ রক্তচাপ রোগীকে ৪৫ দিন নিয়মিত তিলের তেল ব্যবহার করতে বলা হয়। নিয়মত ব্যবহারের ৪৫ দিন পরে তাদের উচ্চ রক্তচাপের মাএা পরিক্ষা করা হয়  এবং ফলাফলে দেখা যায় উচ্চ রক্তচাপের মাএা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।

বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিক একটি সাধরণ রোগের নাম। সারা বিশ্বে  ৪৫ কোটি ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে যার মধ্যে বাংলাদেশে রয়েছে ৮০ লাখ রোগী। আমেরিকান ডায়াবেটিস সোসাইটির তথ্য মতে বিশ্বে প্রতি ২১ সেকেন্ডে একজন লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে।  

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। তিলের তেলে থাকা বিদ্যমান ম্যাগনেসিয়াম এবং অন্যান্য মিনারেলস্ পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। ২০১১ সালের প্রকাশিত আমেরিকার জার্নাল অফ  ক্লিনিক্যালি এক রিপোর্টে বলা হয়, তিলের তেল অত্যন্ত কার্যকরি ডায়াবেটিস টাইপ – ২ রোগীদের ওরাল সমস্যা সমাধানের জন্য। কারণ এতে রয়েছে ওরাল এন্টিবায়োটিক ড্রাগসৃ গ্লোবেনকালমেড (glibenclamide) রয়েছে। অন্য আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত তিলের তেল ব্যবহার করছেন, তাদের ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপের  ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস হয় যায়। কারন তিলের তেলে থাকা প্লাজমা গ্লুকোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূৃমিকা পালন করে। বিশেষ করে হাইপারটেনসিভ রোগীদের জন্য।

তিলের তেলে আরও রয়েছে  জিংক এবং কপার যা শরীরের মেটাবলিজম সিস্টেম কে ভাল ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তিলের তেলে থাকা কপার আমাদের দেহে রক্তের নতুন কোষগুলো উৎপাদনে সাহায্য করে। তাছাড়া রক্তে থাকা টিস্যু ও অন্যান্য কেষগুলো রক্ষনাবেন করে থাকে। যা আপনাকে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে সাহায্য করে।

আমাদের দেশে সাধারণ একটি সমস্যা জয়েন্ট ব্যাথা৷ তিলের তেল থাকা কপার এবং মিনারেলস শরীরের ব্যাথা বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ভবিষ্যতের ব্যাথার লক্ষ্যণগুলো হ্রাস করে। কারন তিলের আপনার শরীরের হাড় স্বাস্থ্য , জয়েন্ট গুলো এবং রক্ত ভালো রাখে।

কোষ্ঠকাঠিন্য  একটি অতি পরিচিত নিত্য সমস্যা আমাদের জন্য। সাধারণত নিয়মিত পানি পান করার অনীহা , ফাস্ট – ফুড অতিরিক্ত মাএায় গ্রহণ করা, আঁশ যুক্ত খাবার না খাওয়া সহ অস্বাস্থ্যকর  জীবন যাপন এর মুল কারন। আপনার এই নিয়মিত কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে পারে তিলের তেল। নিয়মিত এক চামচ তিলের তেল সেবন আপনাকে অনেকটা মুক্তি দিবে। তাছাড়া আপনি তিলের বীজ ভিজানো পানি পান করতে পারেন দিনে একবার বা দুই বার। সমপরিমাণ উপকার পাবেন।                            

শিশুদের স্বাস্থ্যের যত্নে তিলের তেল

তিলের তেল শিশুদের শরীরের ম্যাসেজ অয়েল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহুকাল ধরে। নিয়মিত ব্যবহারে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ত্বরাণিত করে।  বর্তমান সময়ে দীর্ঘসময় ডায়পার ব্যবহারের ফলে শিশুর শরীরে রেশ উঠে থাকে।শিশুর শরীরে এই রেশ উঠা প্রতিরোধে তিলের তেলের ম্যাসেজ বেশ কার্যকরি। ঋতু পরিবর্তনের ফলে অনেক সময় শিশুর শরীর শুষ্ক হয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে তিলের তেলের নিয়মিত ম্যাসেজ শিশুর ত্বকে রাখবে কোমল ও নরম।    

ত্বকের যত্নে তিলের তেল

তিলের তেল ত্বকের যত্নে অনেক প্রাচীন কাল থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। তিলের তেলে থাকা ভিটামিন – ই, ডি এবং বি কমপ্লেক্স যা ত্বকের যেকোন প্রকার সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

তিলের তেল থাকা এন্টি – ইনফ্যালামেটরি প্রোপার্টিজ যা ত্বকে রক্ষা করে ব্যাকটেরিয়াল  ইনফেকশন থেকে। তিলের তেল নিয়মিত ম্যাসেজ ত্বকের ড্র্যামেজ সেল রিপেয়ার করে এবং রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে।

ত্বকের বলিরেখা দূর করতে তিলের তেলের জুড়ি নেই। কারণ তিলের তেলের এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের অক্সিজেন সরবারহ বৃদ্ধি করে এবং মুখের বন্ধ লোমকূপ গুলো খুলে দেয়।  রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তিলের তেল এবং লেভেন্ডার তেল সমপরিমাণ মিশিয়ে ত্বক ব্যবহার করলে বেশ ভাল ফলাফল পাওয়া যায়। একটু লক্ষ্য করলেন দেখবেন, নাইট ক্রিম গুলোতে তিলের তেলের ব্যবহার বেশ উল্লেখযোগ্য।

তাছাড়া  প্রাকৃতিক সানস্ক্রিম হিসেবে তিলের তেল ব্যবহার করা হয়। যদি আপনি ক্যামিক্যাল যুক্ত সানস্ক্রিম ব্যবহার করতে না চান সেক্ষেত্রে কোন এশেনশিয়াল অয়েল এর সাথে মিশিয়ে তিলের তেল ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক ত্বকের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে তিলের তেলের বেশ সুনাম রয়েছে। আপনি চাইলে আপনার শুষ্ক ত্বকে ময়েশ্চারাইজিং করতে পারেন তিলের তেল দ্বারা।       

চুলের যত্নে তিলের তেল

চুলের যত্নে তিলের তেলের বেশ জনপ্রিয় ও  ব্যবহার করা হয় ব্যাপক। তিলের তেলে থাকা ফ্যাটি এসিড চুলের যত্নে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিলের তেলে আরও রয়েছে লিওনিক এসিড, অলিক এসিড, প্যালামেটিক এসিড,  এসটেরিক এসিড এবং অন্যান্য। তিলের তেলে আরও রয়েছে ভিটামিন – ই ও কে।

তিলের তেলে থাকা ফ্যাটি এসিড চুলকে ধূসর ও রুক্ষ হওয়ার থেকে রক্ষা করে এবং চুলকে স্বাভাবিক ভাবে কালো ও করতে সাহায্য করে।

চুলের বেড়ে ওঠার জন্য তিলের তেল ব্যবহার করা হয়। কারণ তিলের তেলের চুলের গোড়ায় নিয়মিত ম্যাসেজ করলে, চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। ফলে চুল স্বাভাবিক ভাবে লম্বা হয় এবং ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।

ত্বকের সাথে সাথে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি আমাদের চুলের ক্ষতি সাধন করে থাকে। তাই ত্বকের সানস্ক্রিমের মতো চুলের সানস্ক্রিম হিসেবে তিলের তেল কাজ করে। তাই রোদে পড়া রুক্ষ চুলকে সজীব করতে তিলের ম্যাসেজই যথেষ্ট। শ্যাম্পু করার ২০ মিনিট আগে তিলের তেলের হট অয়েল ম্যাসেজ করলে বেশ উপকার পাওয়া যায় চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে। তাছাড়া খুশকির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে এই তিলের তেল।     

তিলের তেলের উপকারীতা অনেক। তা আপনি যেভাবেই ব্যবহার করুন না কেন৷ তবে অবশ্যই তার জন্য আপনাকে সঠিক এবং ভেজাল মুক্ত তিলের তেল বেছে নিতে হবে। তবে আপনি তার যথা-উপযুক্ত উপকারটি পাবেন। এই ভেজাল মুক্ত তিলের তেলের জন্য আপনাদের পাশেই আছে মাই অর্গানিক বিডি।