বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। তাই মাছ আমাদের দৈনিক আমিষের যোগানের একটি বড় উৎস। তবে তাজা মাছের সাথে আমরা আরও একটি পদের সাথে অতি পরিচিত। তাহলো শুটকি মাছ (dry fish)। নামটা শোনা মাএই মুখে জল এসে যায় অনেকের। আবার অনেকের উল্টো পালানোর উপক্রম।

সাধারণত তাজা মাছের উচ্ছিষ্ট অংশটুকু ফেলে লবণ মাখিয়ে রোদে শুকিয়ে শুটকি মাছ (dry fish) তৈরি করা হয়। বর্তমানে আধুনিক কিছু পদ্ধতির মাধ্যমে শুটকি মাছ সংরক্ষণ করা হয়। মোট খাদ্য থেকে প্রাপ্ত আমিষের প্রায় ৬০% আসে  মৎসজাত খাদ্য থেকে। তার প্রায় অধেক পূরণ হয় শুটুকি মাছের।

নানারকম শুটকি মাছ (Types of dry fish)

শুটকি মাছের মধ্যে লইট্রা, ছুরি, কুরাল, চাপিলা, কাকিলা, ফাইসা, রিটা, সুরমা,রুপচান্দা, নোনা ইলিশ, মোলা এবং পুটি।  তবে পুটিঁ শুটকি চ্যাপা শুটকি নামেও পরিচিত। নানান পদের সাথে আমরা শুটকি খাই।

শুটকির পুষ্টিগুণ (Nutritional facts of dry fish)

মুখোরচক খাবার সাথে সাথে  শুটকি মাছ অতি পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি খাবার। এতে রয়েছে প্রোটিন ও খনিজ লবন ও লৌহ অধিক পরিমাণে। আরও রয়েছে মানব দেহের অতি প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড, ভিটামিন এ ও ডি। সূর্যের আলো সরসরি পাওয়ার কারণে এটা সহজে বলা যায় শুটকি মাছ থেকে পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।

প্রতি ১০০ গ্রাম শুটকি মাছে থেকে ১৪ থেকে ২২ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। ফ্যাট রয়েছে ২ গ্রাম।তাই বলা যায় আমাদের দেশের শুটকি মাছ কম চর্বি যুক্ত।তাই যাদের চর্বি যুক্ত খাবারে সমস্যা তারা শুটকি মাছকে রাখতে পারেন খাদ্য তালিকায়। তাছাড়া উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাদের জন্যও শুটকি মাছ উৎকৃষ্ট খাবার।

শুটকি মাছে আরোও রয়েছে ক্যালসিয়াম। বিশেষ করে ছোট মাছের চিংড়ি শুটকি খুবই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ গর্ভবতী মায়েদের জন্য। আয়রণের সবচেয়ে ভালো উৎস এই শুটকি মাছ। একজন গর্ভবতী মায়ের দৈনিকের  তুলনায় ২০০ গ্রাম বেশি দরকার। কারণ জন্মের পর শিশু মায়ের দুধ থেকে আয়রণ গ্রহণ করে না। ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে থেকে শিশু মায়ের শরীর হতে নিজের শরীরে আয়রণ সঞ্চয় করে থাকে পরবর্তী ৬ মাসের জন্য।এই বাড়তি আয়রণের জন্য স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি শুটকি মাছ আয়রণের যোগান মিটাবে। সাথে মা ও শিশুর রক্তস্বল্পতা দূর করে।

সুতরাং বলা যায় শুটকি মাছ খাওয়া মতপার্থক্য থাকলেও, স্বাদে ও পুষ্টিতে শুটকি মাছ একটি অসাধারণ  খাবার।