অর্গানিক খাবার মানেই বিশুদ্ধ খাবার। আর আপনি নিশচয়ই চাইবেন এমন কিছু খেতে যা আপনার  শরীরের হবে জন্য সহায়ক। পৃথিবীজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের পুষ্টিকর খাদ্য। এদেরই একটি হচ্ছে মাশরুম। চলুন মাশরুমের গুণাগুণ ও উপকারিতা জেনে নেই এবং চেষ্টা করি মাশরুমকে আমাদের দৈনদিন জীবনের অংশ করে নিতে।

মাশরুম হজমযোগ্য। এটি এক প্রকার ছত্রাক যার আকার ব্যাঙের ছাতার মতো হলেও এদের মধ্যে তফাত আছে। ফুল জন্মায় না মাশরুমে তাই এটি অপুষ্পক বা ফুল ফোটে না এমন উদ্ভিদশ্রেণীর। বিশ্বজুড়ে প্রায় তিন লাখ প্রজাতির মাশরুম আছে এবং মতান্তরে শুধু দশ হাজার প্রজাতির উপর উন্নয়নমূলক গবেষণা চলছে।

সূর্যের আলোয় খুব বেশি জন্মাতে পারে না বলে খাবারের উপযোগী করে তুলতে কৃত্রিম উপায়ে বিভিন্ন ধরণের মাশরুম চাষ করা হয়। আমাদের দেশে তিন ধরণের মাশরুমের চাষ হয়। যেমনঃ স্ট্র, ইয়ার, অয়েস্টার মাশরুম। গবেষণায় দেখা গেছে একশ গ্রাম মাশরুমে ২৫-৩৫ গ্রাম প্রোটিন, ৫৭-৬০ গ্রাম ভিটামিন ও মিনারেল, ৫-৬ গ্রাম শর্করা, ৪-৬ গ্রাম চর্বি বিদ্যমান। মানবদেহে সম্পূর্ণ একটি প্রোটীন থাকার পূর্বশর্ত হলো ৯ ধরনের এমাইনো এসিড থাকতে হবে এবং মাশরুমে এই ৯ টি এমাইনো এসিড একেবারে সন্তোষজনক অবস্থায় বিদ্যমান। নির্দোষ প্রোটিনে ভরপুর মাশরুমে কোন রকম ক্ষতিকর চর্বি নেই। ফলে, মেদভূড়ি, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ইত্যাদি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা নেই।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের দৈনদিন জীবনে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের পরিমাণ বেশি। ভাতের বিকল্প না থাকায় ভাতে প্রচুর পরিমাণ শর্করা আমাদের শরীরে ক্যালরি হয়ে ঢোকে যা আমরা ঝরাতে পারি না অনেক সময়। এর ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যায়। মাশরুম এক্ষেত্রে এগিয়ে আছে কম কার্বোহাইড্রেট নিয়ে। মাশরুম ডায়বেটিস রোগীদের ইনসুলিনের চাহিদা কমাতে সাহায্য করে।

আঁশের পরিমাণ ১০-২৮% মাশরুমে, যা অন্যান্য খাবারের তুলনায় বেশী। ফলে, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুকনো মাশরুমে ৫৭-৬০% ভিটামিন-মিনারেল থাকে যা আমাদের স্বাস্থ্যকে দেয় সুরক্ষা। ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা আপনার দেহকে করে সুরক্ষিত। বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার, চুলপড়া বন্ধ করায় সাহায্য করে। দেহের ক্ষয়পূরণ, হাড় গঠন ও দাত গঠনেও মাশরুমের অনন্য অবদান রয়েছে।

যদিও সম্পূরক খাদ্য তারপরও অন্যান্য খাদ্যের সাথে রাঁধলে স্বাদ বেড়ে বহুগুলে। তাই প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার করে আসা এই মাশরুমের গুনাবলী বলে শেষ করা যাবেনা। যে কোনো ধরনের খাবারের সাথে যোগ করে আহারযোগ্য এই সবজির প্রয়োজনীয়তা অসীম। এমনকি রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন খাবারের সাথে যোগ করেও খাবারকে আরো সুস্বাদু করে তুলতে এই মাশরুমের জুড়ি নেই। তাই আসুন বেশী বেশী করে মাশরুম খাই আর আমাদের শরীরকে করে তুলি রোগ প্রতিরোধ্য।