মসলিন শব্দটির সাথে আমাদের পরিচিতি বা একপ্রকার নাড়ির টান আছে । মসলিনের প্রাচীন নাম মলমল। বাংলাদেশের প্রতি্টি মানুষের কাছে  মসলিন মানে একগুচ্ছ ইতিহাস। এই স্বচ্ছ কাপড়টির যেমন রয়েছে গোরব উজ্জল স্বর্ণ যুগ , তেমনি রয়েছে কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার এক করুন ইতিহাস।

মসলিনের ইতিহাস (History of Muslin)

মসলিনের পথ চলা শুরু হয়েছিল আজ থেকে ৪০০ বছর আগে থেকে। বঙ্গদেশ থেকে অথাৎ  বাংলাদেশসহ ভারতের  পশ্চিম বাংলার উৎপাদিত মসলিন  সদূর চীন , আমেরিকা , নেদারল্যান্ড , জার্মানি,  ইতালি, মিশর , ইউরোপসহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল । পেরিপ্লাস অব দি ইরিথ্রিয়েইন সী (Periplus of the Erythraean Sea)  অনুযায়ী আরব ও গ্রীক ব্যবসায়ীরা দ্বিতীয় শতাব্দীতে ভারত ও লোহিত সাগরের আদুলির (দি ইরিট্রেয়া) মাধ্যমে মিশরে এবং ইথিওপিয়াতে বাণিজ্য করত। সেই সময়ে মসলিন কাপড়ের বিনিময়ে হাতির দাঁত, কচ্ছপের খোল ও গণ্ডার-শিংয়ের আমদানি করা হত।

রোমানরা মসলিনের খুব কদর করত। বুলিয়ান এবং সোনার কয়েন ব্যবহার করে দাক্ষিণাত্য এবং দক্ষিন ভারত থেকে তারা মসলিন কিনে নিয়ে যেত। রোমানরাই ইউরোপে প্রথম মসলিন কাপড়ের ব্যবসায় চালু করে এবং ধীরে ধীরে এটি প্রবল জনপ্রিয়তা লাভ করে। মসলিনের সূক্ষ্মতার দিকটি ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনা থেকে জানা যায়।।মসলিনের প্রশংসায় অভিজাত রোমান কুল বধূ ছিল উচ্ছাসিত । যেমন— প্লিনি অভিযোগ করেছেন যে, মসলিনের ক্ষীণ আব্রুর ফাঁকে রোমান সুন্দরীরা দেহের বঙ্কিম রেখা প্রকাশ করতেন ।

গবেষক বার্ড উড প্রমুখ গবেষণা করেছেন যে, ঢাকাই মসলিন প্রাচীন মিশরীর ও বেবিলনে বিশেষ খ্যাতিলাভ করতে সক্ষম হয়েছিল। উইলফোর্ড মন্তব্য করেছেন যে, একটি বেবিলিয়ান বস্ত্র ফিরিস্তিতে ঢাকাই মসলিনের উল্লেখ রয়েছে। প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতায় পোশাকের বিলাসিতার দরুন ঢাকাইয়া মসলিন ব্যবহার করা হতো। খ্রিস্টপূর্ব ১৪৬২ সালে মিসরের রাজবংশের সমাপ্তিকাল সময়  প্রাচীন কবরের মমি গুলো বাংলাদেশের নীলে রঞ্জিত ও মসলিনে জড়ানো  হয়ে ছিল বলে সন্ধান পাওয়া গেছে।

ইয়েট বলেন যে, খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে ঢাকাইয়া মসলিন গ্রিসে বিক্রয় করা হত। সেখানকার পাথরের দেবীদের মসলিন কাপড় পরানো হত ।  ইতিহাসে আরও দেখা যায়, ঢাকার ‘ঝুনা’ মলমল নামের বিশেষ ধরনের মসলিন পরার কারণে গ্রিক যুবকরা সেখানকার দার্শনিক ও ব্যঙ্গকাব্য লেখক-কবিদের কঠোর সমালোচনার পাত্র হয়েছিলেন । তাছাড়া কুলভা নামের তিব্বতিয় প্রাচীন এক গ্রন্থে  বলা আছে , ঝুনা মলমল মসলিন পরিধান করায় এক ধর্ম যাজীকাকে দুশ্চরিতরা বলে তাঁকে তীব্র সমালচনার মুখে পরতে হয় ।

বিখ্যাত ইতিহাস গুলোর মধ্যে বেশ উল্লেখ্যযোগ্য আছে, সাত আবরোঁয়া যুক্ত মসলিন পোশাক  পরে রাজ দরবারে হাজির হওয়ার পর শাহজাদী জেব-উন্নেছাকে উলঙ্গ ভেবে পিতা বাদশাহ আওরঙ্গজেব তীব্র তিরস্কার করেছিলেন । মলমল খাস মসলিন নিয়ে আরও একটি  গল্প রয়েছে , একবার নবাব আলিবর্দী খাঁ এক খণ্ড কাপড় ধুয়ে ঘাসের ওপর  রোঁদে শুকাতে দেয়া হয়। কাপড়টি এতো টা স্বচ্ছ ছিল যে, ঘাস আর কাপড়ের পার্থক্য না বুঝতে পেরে , ঘাস মনে করে একটা গরু নাকি তা খেয়ে ফেলে  ছিল। পরে বাদশাহ সেই তাঁতি কে শহর থেকে বের করে দেন।

বহু বিদেশি পর্যটক বাংলা ভ্রমনে এসে মসলিনের বুনন কোশল ও কাপড়ের নেপুনতা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন । খ্রিস্টীয় নবম শতকে আরব পর্যটক ও ভূগোলবিদ সুলেইমান ‘সিলসিলাত-উত্-তাওয়ারিখ’ শীর্ষক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—রুমি নামের এক রাজ্যে (খুব সম্ভবত বর্তমান বাংলাদেশ) এমন একধরনের মিহি ও সূক্ষ্ম বস্ত্র পাওয়া যায় যে ৪০ হাত লম্বা ও ২ হাত চওড়া এমন একটি কাপড় একটা ছোট আংটির মধ্য দিয়ে অনায়াসে চালাচালি করা যায়।  চর্তুদশ শতাব্দির  মাঝামাঝি বাংলায় আসেন  আফ্রিকার মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা , তিনি সোনারগাঁওয়ে উত্কৃষ্ট মসলিন তৈরি হতে দেখেন । তিনি তা দেখে চমত্কৃত হয়ে মন্তব্য করেন—এমন উন্নতমানের বস্ত্র হয়তো সারা দুনিয়ায় আর কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। একজন চীনা সমুদ্রযাত্রী মা হুয়ান তার যাত্রাবিবরনীতে পঞ্চদশ শতকের শুরুতে বাংলায় পাঁচ থেকে ছয় রকমের সূক্ষ্ম কাপড়ের উল্লেখ করেছেন। মা হুয়ানের বিবরণ অনুযায়ী বাংলার মসলিন তখন চীনে বেশ মুল্যবান ছিল। ষোড়শ শতকে ইংরেজ পর্যটক রলফ ফিচ, পর্তুগিজ পর্যটক ডুয়ার্টে বারবোসা এবং অষ্টাদশ শতকের ডাচ পর্যটক স্ট্যাভোরিনাস বাংলাদেশের কয়েকটি বিশেষ অঞ্চলে মসলিন তৈরি প্রত্যক্ষ করেন এবং মসলিনের সূক্ষ্ম ও মিহি বুননের সোন্দয্যে প্রভূত পূর্ব প্রশংসা করেন । এছাড়াও বাংলাদেশে তৈরি মসলিনের সূক্ষ্ম, মিহি ও দৃষ্টিনন্দন বুননে বিস্ময় প্রকাশ করেন ইংরেজ কোম্পানির সরকারি ঐতিহাসিক রবার্ট ওরম। তিনি খ্রিস্টীয় ১৭৫০ সালে বাংলাদেশে অবস্থান করার সূত্রে মসলিনের বুনন ও ঐতিহ্য প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম হন। তিনি লিখেছেন—‘এমন অবিশ্বাস্য রকমের সূক্ষ্ম কাপড় কী করে যে এখানকার মানুষ তৈরি করতে পারে, তা আমার কাছে একটি ধাঁধা।  তিনি  আরও বলেছেন, বাংলার তাঁতিদের বিশেষ ধরনের অনন্য দক্ষতার জন্যেই এত উচ্চমানের বস্ত্র তৈরি সম্ভব হয়েছিল। তিনি আরও বলেন—যান্ত্রিক ব্যাপারে এদেশীয় তাঁতিদের দক্ষতার অভাব থাকলেও তাঁদের মধ্যে সার্বিক সংবেদনশীল নমনীয়তা ছিল। এদেশের রাঁধুনির হাত যেকোনো ইউরোপীয় সুন্দরীর হাতের চেয়ে আরও কোমল আর সুন্দর ছিল।

১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রিপোর্ট থেকে জানা যায়—বাংলার তাঁতিরা কোনো ‘মেশিন’ ছাড়াই নিজেদের উদ্ভাবিত অতি সাধারণ কিছু যন্ত্রপাতি দিয়ে অত্যন্ত সুন্দর ও অতিসূক্ষ্ম বস্ত্র তৈরি করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ৭৫ শতাংশ আয় হতো মসলিন রপ্তানির মাধ্যমে।

মসলিন শব্দটির উৎপত্তি (Muslin’s Origin)

মসলিন শব্দটির উৎপত্তি উৎস সম্পর্কে্ বেশ অস্পষ্টতা রয়েছে ।  তবে উইকিপিডি্যার তথ্য মতে,  এস. সি. বার্নেল ও হেনরি ইউল নামের দুইজন ইংরেজ কর্তৃক প্রকাশিত অভিধান ‘হবসন জবসন’-এ উল্লেখ করা হয়েছে মসলিন শব্দটি এসেছে ‘মসুল’  শব্দ থেকে । ইরাকের এক বিখ্যাত ব্যবসা কেন্দ্র হল মসুল। এই মসুলেও অতি সূক্ষ্ম কাপড় প্রস্তুত হত। এই ‘মসুল’ এবং ‘সূক্ষ্ম কাপড়’ -এ দুইয়ের যোগসূত্র মিলিয়ে ইংরেজরা অতিসূক্ষ্ম কাপড়ের নাম দেয় ‘মসলিন’। অবশ্য বাংলার ইতিহাসে ‘মসলিন’ বলতে বোঝানো হয় তৎকালীন ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে উৎপাদিত অতি সূক্ষ্ম একপ্রকার কাপড়কে।

মসলিনের উৎপাদন প্রক্রিয়া (Production of Muslin)

মসলিন তেরি করা হতো ফুটি কাপাস নামক গাছের তুলা থেকে । বৈজ্ঞানিক নাম ‘গসিপিয়াম আরবোরিয়াম ভার নেগলেক্টা’ (Gossypium Arboreum Var Neglecta)। মসলিনের তুলা ছিল অন্য তুলা জাতের চেয়ে ভিন্ন । বাংলাদেশের কয়েকটি জায়গায় এই তুলা জন্মাত । মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী জমিতে । আর মসলিন সুতা দিয়ে কাপড় বোনার ক্ষেত্রে যেমন, তেমনি তুলা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পরিবেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল । ঠান্ডা শীতল আবহাওয়া মসলিনের সুতা কাটার জন্য বেশ উপযোগী । একটি কথা প্রচলিত আছে , ভোরের সময় মহিলারা মসলিনের সুতা কাটতেন সূর্য মাথার উপর উঠলে তা সম্ভব ছিলনা । প্রয়োজনে তারা নদীর মাঝে নোয়কা বসে সুতা কাটতেন । প্রাচীন মসলিন শাড়ীতে ৭০০ থেকে ৮০০ কাউন্টের সুতার বুনার কাজটি করা হতো । ফলে শাড়ী গুলো হতো সূখ ও স্বচ্ছ ।   

মসলিনের প্রকারভেদ (Types of Muslin)

অভিজ্রাতের প্রতীক হিসেবে এবং সৌন্দর্য ও ব্যবহারের প্রকার ভেদে বিভিন্ন নামে মসলিন কাপড় প্রসার লাভ করে । যথাঃ

মলবুস খাস

মলবুস খাস মানে ছিল বাদশাহ বা স্রমাটদের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরিকৃত কাপড়। মলবুস খাস মানে হল আসল কাপড়। ১৮’শ শতকের শেষের দিকে মলবুস খাসের ন্যায় আরও একটি উন্নত কাপড় তরি করা হয়ে ছিল । যার নাম ছিল “মলমল খাস”। কাপড় গুলো দেঘ্য ছিল ১০ গজ  এবং প্রস্থে ছিল ১ গজ আর ওজন হত ৬-৭ তোলা। যা একটি আংটির মাঝে অনায়াসে আনা নেওয়া করা যেত। সাধারণত এই কাপড় গুলো রপ্তানি করা হতো ।

সরকার-ই-আলা

মলবুস খাসের ন্যায় মসলিনের এই কাপড়টি ছিল বেশ উন্নত । বাংলার নবাব বা সুবাদারদের জন্য তৈরি হত  সরকার- ই- আলা মসলিন। সরকার-ই-আলা নামের জায়গা থেকে পাওয়া খাজনা দিয়ে এর দাম শোধ করা হত বলে এই মসলিনের  নামকরণ এই ভাবে করা হয়েছে। লম্বায় হত ১০ গজ, চওড়ায় ১ গজ আর ওজন হত প্রায় ১০ তোলা ।

ঝুনা

ঝুনা’ শব্দটি, জেমস টেইলরের মতে, এসেছে হিন্দি শব্দ ঝিনা থেকে, যার অর্থ হল সূক্ষ্ণ কাপড়। ঝুনা মসলিন ও সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে তৈরি করা হতো, তবে সুতার পরিমাণ থাকত কম । তাই এ জাতীয় মসলিন হালকা জালের মতো হত দেখতে। একেক টুকরা ঝুনা মসলিন লম্বায় ২০ গজ, প্রস্থে ১ গজ হত। ওজন হত মাত্র ২০ তোলা। এই মসলিন বিদেশে রপ্তানি করা হত না, পাঠানো হতো মোঘল রাজ দরবারে। সেখানে দরবারের শাহাজাদা গণ  বা হারেমের মহিলারা গরমকালে মসলিনের তৈরি জামা গায়ে দিতেন। তাছাড়া নরতকী গণ ঝুনার তেরি জামা পড়ে নাচ করতেন ।

আব-ই-রওয়ান

আব-ই-রওয়ান  ফার্সি শব্দ এর অর্থ  প্রবাহিত পানি। এই মসলিন কাপড়ের সূক্ষ্মতা বোঝাতে প্রবাহিত পানির মতো টলটলে উপমা থেকে এর নাম করণ করা হয় ‘আব-রওয়ান’ । লম্বায় হত ২০ গজ, চওড়ায় ১ গজ, আর ওজন হত ২০ তোলা। আব-ই-রওয়ান সম্পর্কে প্রচলিত গল্প গুলোর কথা বেশ চমৎকার ছিল।

খাসসা

ফার্সি শব্দ খাসসা। এই ধরনের মসলিন কাপড় ছিল মিহি আর সূক্ষ্ম, অবশ্য বুনন ছিল ঘন। ১৭ শতকের দিকে সোনারগাঁ বিখ্যাত ছিল খাসসা মসলিনের জন্য। তাছাড়া ১৮ থেকে ১৯ শতক সময়ে  জঙ্গলবাড়ি ও বিখ্যাত ছিল এ মসলিনের জন্য। তখন একে ‘জঙ্গল খাসসা’ বলা হত। অবশ্য ইংরেজরা একে ডাকত ‘কুষা’ বলে।

শবনম

‘শবনম’ কথাটার অর্থ হলো ভোরের শিশির। ভোরে শবনম মসলিন শিশিরভেজা ঘাসে শুকোতে দেয়া হলে বলে , এই মসলিন দেখাই যেত না, এতটাই মিহি আর সূক্ষ্ম ছিল এই শবনম। ২০ গজ লম্বা আর ১ গজ প্রস্থের শবনমের ওজন হত ২০ থেকে ২২ তোলা । শবনম দেখতে অনেকটা কুয়াশার মতো ছিল ।

নয়ন সুখ

মসলিনের এই কাপড়টির নাম একমাত্র বাংলা শব্দের অভিধান থেকে। সাধারণত গলাবন্ধ রুমাল হিসেবে এর ব্যবহার হত। এ জাতীয় মসলিনও ২০ গজ লম্বা আর ১ গজ চওড়া হত।

 

বদন খাস

বদন অর্থ “শরীর” আর খাস অর্থ বিশেষ । এ ধরনের মসলিনের নাম থেকে ধারণা করা হয়, খুব সম্ভবত শুধু জামা তৈরির জন্য এ মসলিন ব্যবহার করা  হতো । বদন খাসের বুনন ঘন হত না। এই কাপড় ২৪ গজ লম্বা আর দেড় গজ চওড়া হত ও ওজনে হতো ৩০ তোলা।

সর-বন্ধ

ফার্সি শব্দ সর-বন্ধ যার অর্থ হল “ মাথা বাঁধা ।  সর-বন্ধ মসলিন কাপড় দিয়ে প্রাচীন বাংলার উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা মাথায় পাগড়ি বাঁধতেন।  এই মসলিন কাপড় লম্বায় ২০-২৪ গজ আর চওড়ায় আধা থেকে এক গজ হতো; ওজন হতো ৩০ তোলা।

ডোরিয়া

এই মসলিন কাপড়টির বৈশিষ্ট্য ছিল ডোরা কাটা । তার জন্য এই মসলিন কাপড় ‘ডোরিয়া’ বলে পরিচিত ছিল। লম্বায় ১০-১২ গজ আর চওড়ায় ১ গজ হত। শিশুদের জামা তৈরি করে দেয়া হত ডোরিয়া মসলিন কাপড় দিয়ে।

জামদানী

আগেকার যুগে ‘জামদানী’ বলতে বোঝানো হতো নকশা-করা মসলিনকে। ১৭০০ শতাব্দীতে জামদানি দিয়ে নকশাওয়ালা শেরওয়ানির প্রচলন ছিল। এ ছাড়া, মুঘল নেপালের আঞ্চলিক পোশাক রাঙ্গার জন্যও জামদানি কাপড় ব্যবহৃত হত। এছাড়াও জামদানি দিয়ে নকশি ওড়না, কুর্তা, পাগড়ি, রুমাল, পর্দা প্রভৃতি ও তৈরি করা হত। নেপোলিয়ানের সএী সম্রাজগী জেসিফিয়ানের শোবার ঘরে মসলিনের জামদানি পর্দা শোভা পেয়েছিল ।

বর্তমান সময়ে জামদানি কার্পাস তুলা দিয়ে প্রস্তুত একধরনের পরিধেয় বস্ত্র। প্রাচীনকালের মিহি মসলিন কাপড়ের উত্তরাধিকারী হিসেবে জামদানি শাড়ি বাঙ্গালি নারীদের অতি পরিচিত।  সেই সময় মসলিনের উপর নকশা করে জামদানি কাপড় তৈরি করা হয়। এখন জামদানি বলতে সাধারণত‍ আমরা শাড়িকে বুঝে থাকি ।

উপরোক্ত এই সকল মসলিন  ছাড়াও আরো বিভিন্ন প্রকারের মসলিন ছিল: ‘রঙ্গ’, ‘আলিবালি’, ‘তরাদ্দাম’, ‘তনজেব’, ‘সরবুটি’, ‘চারকোনা’ ইত্যাদি । তবে বিভিন্ন সময় মসলিনের নকল তৈরি করা হয়েছে । ২০০ বছর আগের হারিয়ে যাওয়া ঢাকাই মসলিনের ইতিহাস আজও আমাদের মনে দাগ কেটে যায়। ঢাকাই মসলিন যে বাংলাদেশের স্বর্ণ জড়িত ইতিহাস।