বেলের পরিচিতি ও ভেষজ গুণাবলি:

বেলগাছ ৮ থেকে ১০ মিটার উঁচু হয়। পাতার গোড়ায় সোজা শক্ত কাঁটা থাকে এবং গীষ্মকালে পাতা ঝরে যায়। ফুল হালকা সবুজ ও সাদা বর্ণের হয়। ফল গোলাকার, শক্ত খোসার ভিতরে ৮ থেকে ১০ টি ভাগ থাকে। প্রতিটি বেলের মধ্যে বীজের সংখ্যা অনেক এবং তা সাদা বর্ণের আঠার মধ্যে নিমজ্জিত থাকে।

প্রচলিত নামঃ বেল

ইউনানী নামঃ বেলগিরী

আয়ুর্বেদিক নামঃ বিল্ব

ইংরেজি নামঃ Bengal Quince, Wood apple, Bael Tree

বৈজ্ঞানিক নামঃ Aegle marmelos Correa

পরিবারঃ Rutaceae

প্রাপ্তিস্থানঃ

বাংলাদেশের সর্বত্রই বাড়ির আশ-পাশে ফলের জন্য লাগানো হয়।

রোপনের সময় ও পদ্ধতিঃ

মে মাসে ফুল হয় এবং ফল পরের বছর জানুয়ারী-এপ্রিল মাসে পাকে। বীজ থেকে চারা করে লাগানো হয়। বর্ষার শুরুতেই চারা লাগানো ভাল। মূল এবং শাখার কাটিং করেও বেল গাছের বংশ বৃদ্ধি করা যায়।

রাসায়নিক উপাদানঃ

ফলে প্রচুর শর্করাদ্রব্য, উদ্বায়ী তেল, অ্যালকোহল, ট্যানিন, প্রোটিন, খনিজ লবণ ও বিভিন্ন ভিটামিন বিদ্যমান।

ব্যবহার্য অংশঃ ফল, মূলের ছাল, পাতা ও ফুল।

গুনাগুনঃ

বেলশুঁঠ বা শুকানো কচিবেল সংকোচক, আমাশয় ও ডায়রিয়ায় কার্যকরী। পাকা বেল কোষ্ঠকাঠিণ্যে উপকারী। পাকস্থলীর, শক্তিবর্ধক, মস্তিষ্ক ও হৃদপিন্ডের শক্তিবর্ধক, ক্ষুধাবর্ধক, সর্দি ও সর্দি-জ্বরে উপকারী। তাছাড়া শুক্র তারল্যে কার্যকরী।

বিশেষ কার্যকারিতাঃ

বেলশুঁঠ বা কচিবেল সংকোচক, আমাশয় ও ডায়রিয়ায় কার্যকরী। পাকা বেল কোষ্ঠকাঠিণ্যে উপকারী।

রোগ অনুযায়ী ব্যবহার পদ্ধতিঃ

রোগেরনামঃ আমাশয় ও উদরাময়ে
ব্যবহার্য অংশঃ বেলশুঁঠ বা কচিবেল চূর্ণ
মাত্রাঃ ৩-৫ গ্রাম
ব্যবহার পদ্ধতিঃ ৬ ঘন্টা পর পর ঠান্ডা পানিসহ সেব্য।
রোগেরনামঃকোষ্ঠকাঠিণ্যে
ব্যবহার্য অংশঃ পাকা বেলের শাঁস
মাত্রাঃ ৩০-৩৫ গ্রাম
ব্যবহার পদ্ধতিঃ প্রতিবার ১ গ্লাস পানিতে শরবত তৈরি করে দিনে ২ বার সেব্য।
রোগেরনামঃ সর্দি ও সর্দিজ্বরে
ব্যবহার্য অংশঃ বেলপাতার নির্যাস
মাত্রাঃ ১৫-২০ মিলি
ব্যবহার পদ্ধতিঃ ৬ ঘন্টা পর পর সেব্য।
রোগেরনামঃ শুক্রতারল্যে
ব্যবহার্য অংশঃ বেলগাছের শিকড়ের ছাল চূর্ণ
মাত্রাঃ ২-৩ গ্রাম

ব্যবহার পদ্ধতিঃ

গাওয়া ঘি অথবা মধুর সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার সেব্য।

সতর্কতাঃ

বেল ব্যবহারে তেমন কোন সতর্কতার প্রয়োজন নাই।