নিমের পরিচিতি ও ভেষজ গুণাবলি:

নিম বৃহদাকারের বৃক্ষ। সাধারনত ১০-১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। পাতা পক্ষল যৌগিক, ৫-৯ জোড়া পত্রক থাকে, পত্রক কিঞ্চিৎ বাঁকা, কিনার করাতের মত কর্তিত। মার্চ-এপ্রিল মাসের দিকে ফুল হয়। ফুল শ্বেতবর্ণ এবং এক প্রকার মিষ্টিগন্ধ বিশিষ্ট। ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পাকলে পীতবর্ণ বা হলুদ বর্ণ ধারন করে।

প্রচলিত নামঃ নিম

ইউনানী নামঃ নীম

আয়ুর্বেদিক নামঃ নিম্ব

ইংরেজি নামঃ Neem Tree

বৈজ্ঞানিক নামঃ Azadirachta indica A. Juss.

পরিবারঃ Meliaceae

প্রাপ্তিস্থানঃ

বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যায়।

রোপনের সময় ও পদ্ধতিঃ মে-জুন মাস বীজ সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। পরিপক্ক ফল থেকে বীজকে আলাদা করার জন্য ৩-৪ দিন ছায়াযুক্ত পরিবেশে স্তূপাকারে রাখতে হয় ও ফলকে হাত দিয়ে কঁচলিয়ে বীজ সংগ্রহ করা হয়। এরপর উক্ত বীজকে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষন করা যায়। সরাসরি বীজতলায় বপন করা যায়। শুষ্ক ও বালি মাটিতে ভাল জন্মে। বিচি থেকে চারা করে লাগানো হয়।

রাসায়নিক উপাদানঃ

পাতা,ছাল,ফুল,ফল ও বিচির তেলে প্রচুর সংখ্যক তিক্ত উপাদান, যেমন নিম্বিন, নিম্বিডিন, নিম্বিনিন ইত্যাদি, টার্পিনয়েড, গ্লাইকোসাইড, অ্যালকালয়েড ও ট্যানিন বিদ্যমান।

ব্যবহার্য অংশঃ ফুল, পাতা, ছাল, ফল বা বীজ ও তেল

গুনাগুনঃ

রক্ত পরিষ্কারক, চর্মরোগ নাশক, ব্রণ, কৃমি, কুষ্ঠ ও ক্ষত নিবারক।

বিশেষ কার্যকারিতাঃ রক্ত পরিষ্কারক ও চর্মরোগ নাশক।

রোগ অনুযায়ী ব্যবহার পদ্ধতিঃ

রোগেরনামঃ রক্ত পরিষ্কার ও চর্মরোগে
ব্যবহার্য অংশঃ পাতা(কাঁচা)
মাত্রাঃ ১০ গ্রাম
ব্যবহার পদ্ধতিঃ ৩ কাপ পানিতে জ্বাল করে ১ কাপ অবশিষ্ট থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে নির্যাসটুকু চিনিসহ প্রত্যহ ২-৩ বার সেব্য।

রোগেরনামঃ কৃমি নিরসনে
ব্যবহার্য অংশঃ ছালচূর্ণ
মাত্রাঃ ৩-৪ গ্রাম
ব্যবহার পদ্ধতিঃ সামান্য সৈন্দব লবণসহ সকালে খালি পেটে সেব্য। (১ সপ্তাহ)

রোগেরনামঃ খোঁস পাঁচড়া ও পুরনো ক্ষতে
ব্যবহার্য অংশঃ পাতা (কাঁচা)
মাত্রাঃ প্রয়োজনমত
ব্যবহার পদ্ধতিঃ নিমপাতার সাথে সামান্য পরিমাণ কাঁচা হলুদ মিশিয়ে ভালভাবে আক্রান্ত স্থানে প্রলেপ দিতে হবে (৭-১০ দিন) ।

সতর্কতাঃ

নির্দিষ্ট মাত্রার অধিক ব্যবহার করা সমীচীন নয়।