থানকুনির পরিচিতি ও ভেষজ গুণাবলি:

থানকুনি ছোট বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। পাতা বৃত্তাকার এবং পাতার কিনারা সামান্য খাঁজ কাটা। গোড়া হতে সরু শাখা বের হয় এবং প্রত্যক শাখার মাথায় একটি করে পাতা থাকে। সাধারনতঃ শীতের শেষে বসন্তকালে ফুল ও ফল হয়।

প্রচলিত নামঃ থানকুনি, টাকা পাতা, ঢোলা মানকিন, থুলকুড়ি

ইউনানী নামঃ বানাফ্‌শাহ (দেশী), থানকুনি

আয়ুর্বেদিক নামঃ থানকুনি, মন্ডোকপর্নী

ইংরেজি নামঃ Indian Pennywort

বৈজ্ঞানিক নামঃ Centella asiatica (Linn.) Urban.

পরিবারঃ Apiaceae

প্রাপ্তিস্থানঃ বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যায়।

রোপনের সময় ও পদ্ধতিঃ

বছরের যে কোন সময় লাগানো যায়, তবে বর্ষায় লাগালে ভাল হয়। বংশ বিস্তারের জন্য বীজ এবং অঙ্গজ প্রজনন পদ্ধতি প্রধান মাধ্যম। দ্রুত বংশ বিস্তারের জন্য অঙ্গজ অংশ গুরুত্বপূর্ণ। এটি রসযুক্ত মাটিতে ভাল জন্মে।

রাসায়নিক উপাদানঃ

এতে ট্রাইটার্পিন, গ্লাইকোসাইড, বিভিন্ন জৈব এসিড, উদ্দায়ী তেল ও স্টেরল বিদ্যমান।

ব্যবহার্য অংশঃ সমগ্র উদ্ভিদ।

গুনাগুনঃ

আমাশয়, দেহের ক্লান্তি দূরীকরণ ও লাবণ্য রক্ষা, অপুষ্টিজনিত কেশপতন, কৃশতা, হজমশক্তি বৃদ্ধি, দুষিত ক্ষত, মুখের ঘা ও স্নায়ু শক্তি বৃদ্ধিতে উপকারী।

বিশেষ কার্যকারিতাঃ

আমাশয়, দেহের ক্লান্তি দূরীকরণ ও লাবণ্য রক্ষা, অপুষ্টিজনিত কেশপতনে কার্যকরী।

রোগ অনুযায়ী ব্যবহার পদ্ধতিঃ

রোগেরনামঃ আমাশয় ও হজমশক্তি বৃদ্ধিতে
ব্যবহার্য অংশঃ সমগ্র উদ্ভিদ চূর্ণ
মাত্রাঃ ২-৩ গ্রাম
ব্যবহার পদ্ধতিঃ প্রত্যহ ২-৩ বার পরিমানমত চিনিসহ সেব্য।

রোগেরনামঃ কেশপতন ও স্নায়ুবিক দুর্বলতায়
ব্যবহার্য অংশঃ পাতার রস
মাত্রাঃ ২০ মি.লি. ( ৪ চা চামচ )
ব্যবহার পদ্ধতিঃ পাতার রস প্রত্যহ ২ বার দুধসহ সেব্য।

রোগেরনামঃ দূষিত ক্ষত চিকিৎসায়
ব্যবহার্য অংশঃ পাতার রস
মাত্রাঃ ২০ মি.লি. ( ৪ চা চামচ )
ব্যবহার পদ্ধতিঃ প্রত্যহ ২ বার মধুসহ সেব্য।

রোগেরনামঃ মুখে ঘা হলে
ব্যবহার্য অংশঃ পাতা
মাত্রাঃ পরিমাণমত
ব্যবহার পদ্ধতিঃ পাতা জ্বাল করে দিনে ২ বার গড়গড়া করলে উপকার হয়।

সতর্কতাঃ

অম্লাধিক্য রোগীদের ক্ষেত্রে চিনি বাদ দিয়ে সেবন করতে হবে।