তুলসীর পরিচিতি ও ভেষজ গুণাবলি:

তুলসী গুল্ম জাতীয় সুগন্ধযুক্ত উদ্ভিদ। সাধারনতঃ ৬০-৮০ সে.মি. উঁচু হয়ে থাকে। এর কান্ড সরল শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট। পাতা সরল, প্রতিমুখ, কিনারা খাঁজ কাটা। শরৎ-হেমন্তে ফুল হয়। বীজ চ্যাপ্টা, মসৃণ ও ফিকে লাল বর্ণের। বাংলাদেশের চার প্রকার তুলসীর সন্ধান পাওয়া যায়। যেমন-বাবুই তুলসী, রাম তুলসী, সাদা তুলসী, কৃষ্ণ তুলসী ও বন তুলসী। সাধারনতঃ একটির পরিবর্তে অন্যটি ব্যবহার করা যায়।

প্রচলিত নামঃ তুলসী

ইউনানী নামঃ রায়হান

আয়ুর্বেদিক নামঃ তুলসী, শুক্ল তুলসী

ইংরেজি নামঃ Holy Basil, Sacred Basil

বৈজ্ঞানিক নামঃ Ocimum sanctum Linn.

পরিবারঃ Lamiaceae (Labiatae)

প্রাপ্তিস্থানঃ বাংলাদেশের সর্বত্র তুলসী গাছ দেখা যায়। বাড়ীর আশে পাশে লাগানো হয়।

রোপনের সময় ও পদ্ধতিঃ

সাধারনত এপ্রিল-মে মাসে বীজ বপন করা হয়। পরিপক্ক ফল থেকে বীজ সংগ্রহের পর তা রৌদ্রে শুকাতে হবে এবং বপনের পূর্বে ৫-৬ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। চারা ২.৫মিঃ অন্তর লাগাতে হবে। আংশিক ছায়াতেও এ গাছ জন্মে। যে কোন বড় গাছের সাথে এর চাষ করা যায়।

রাসায়নিক উপাদানঃ

পাতায় ইউজেনল ও ফিনোল সমৃদ্ধ প্রচুর পরিমাণ উদ্দায়ী তেল বিদ্যমান। এতে অ্যালকালয়েড, গ্লাইকোসাইড এবং সাইট্রিক, ম্যালিক ও টার্টারিক এসিড আছে।

ব্যবহার্য অংশঃ পাতা, বীজ ও রস।

গুনাগুনঃ

শিশুদের সর্দি-কাশি, পেট কামড়ানি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও লিভারের গোলযোগ ফলপ্রদ। সর্দি, হাঁপানি, ঘামাচি, চুলকানি, হাম, কর্ণবেদনা, বসন্ত, দাদ ও কৃমিতে উপকারী।

বিশেষ কার্যকারিতাঃ শিশুদের সর্দি-কাশি, পেট কামড়ানি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও লিভারের গোলযোগ।

রোগ অনুযায়ী ব্যবহার পদ্ধতিঃ

রোগেরনামঃ শিশুদের সর্দি-কাশি, পেট কামড়ানি ও লিভারের গোলযোগ
ব্যবহার্য অংশঃ পাতার রস
মাত্রাঃ ১০-১৫ ফোঁটা
ব্যবহার পদ্ধতিঃ প্রত্যহ ১-২ বার মধুসহ সেব্য।

রোগেরনামঃ দাদ রোগে
ব্যবহার্য অংশঃ পাতার রস
মাত্রাঃ পরিমাণমত
ব্যবহার পদ্ধতিঃ তুলসী পাতার রসে লবণ মিশিয়ে দাদে লাগালে উপশম হয়।

রোগেরনামঃ সর্দি ও হাঁপানিতে
ব্যবহার্য অংশঃ পাতার রস
মাত্রাঃ ১০-১৫ মিলি
ব্যবহার পদ্ধতিঃ আদার রস ১ চা চামচ ও মধু ১ চা চামচসহ প্রত্যহ ৩-৪ বার সেব্য।

রোগেরনামঃ হাম ও বসন্তে
ব্যবহার্য অংশঃ পাতার রস
মাত্রাঃ ১০-১৫ মিলি (২-৩ চা চামচ)
ব্যবহার পদ্ধতিঃ প্রত্যহ ৩-৪ বার সেবন করে গেলে দ্রুত হাম ও বসন্তের গুটি বেরিয়ে আসে।

রোগেরনামঃ ঘামাচি ও চুলকানিতে
ব্যবহার্য অংশঃ কাঁচা তুলসী পাতা
মাত্রাঃ প্রয়োজনমত
ব্যবহার পদ্ধতিঃ দুর্বাঘাসের ডগা সমপরিমাণ মিশিয়ে নিয়ে ভালভাবে পিষে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। (৩-৫ দিন)

সতর্কতাঃ

বিশেষ কোন সতর্কতার প্রয়োজন নাই।

Cart
  • No products in the cart.