তিসি বীজ (Flax seed)

কয়েকশত বছর ধরেই স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে তিসি বীজ। আমাদের দেশে তিসি শস্য হিসেবেই চাষ করা হয়। তবে বাগানের সৌন্দর্য বর্ধনেও শোভা পায় এই গুল্ম উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম – Linum usitatissimum. এটি চীন ও মিশরের স্থানীয় শস্য।

তিসি বীজের অফুরন্ত স্বাস্থ্যোপকারিতার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোতেও এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক।

 

উপকারিতা  

ক্ষুদ্র এই বীজটিতে পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় খনিজ ও ভিটামিন। পুষ্টি উপাদানে ভরপুর এই বীজটি শরীরকে রোগমুক্ত করতে পারদর্শী।

 

ওজন কমাতে সাহায্য করে

স্থুলতা দূর করতে ওজন কমাতে চান অনেকেই। তবে অতিরিক্ত ক্ষুধার প্রবনতা বাধা হয়ে দাড়ায়। তিসির বীজ আপমার ওজন কমানোর এই যাত্রার সঙ্গী হতে পারে। তিসির বীজ অনেকক্ষণ পেট পূর্ণ রাখতে সাহায্য করে। ফলে ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে যায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে  রোজকার ডায়েটে নাস্তা হিসেবে যুক্ত করে নিন তিসির বীজ।

 

ক্যান্সার প্রতিরোধী ক্ষমতা

এপর্যন্ত তিসির বীজের ক্যান্সার প্রতিরোধী ক্ষমতা নিয়ে অনেক গবেষণা করা হয়েছে। সবগুলো গবেষনাই দাবী করে তিসির বীজ ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

এতে প্রচুর পরিমাণ লিগন্যান থাকে, যা ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতাকে দূর করে। মহিলাদের উপর করা এক গবেষনায় জানা যায় তিসির বীজ স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এছাড়াও পায়ু ও ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধেও সক্ষম এই বীজ।

 

কোলেস্টেরল মাত্রা হ্রাস করে

তিসির বীজের উচ্চ ফাইবার রক্তে কোলেস্টেরলের লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে। এক সমীক্ষার ফলাফল অনুসারে এটি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল এর মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনে।

তাই কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখতে নিয়মিত ৩০গ্রাম তিসি বীজ গ্রহণ করুন। এটি আপনার হার্টের সুরক্ষাও প্রদান করবে।

 

ব্রেনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

সকলেই চায় তার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে। অনেক ধরনের খাবার আছে যা আপনার মস্তিষ্কের ফাংশন উন্নত করবে। তন্মধ্যে একটি তিসির বীজ।

তিসির বীজ খাওয়ার ফলে শরীরে আলফা-নিলোনেলিক অ্যাসিডের পরিমান বৃদ্ধি পায়। এই অ্যাসিড ব্রেনকে কার্যকর করতে সহায়তা করে। ফলবশত মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা দ্রুত  বেড়ে যায়। সেই সাথে বাড়ে স্মৃতিশক্তিও।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে

উচ্চ রক্তচাপ – যেই রোগের প্রভাব আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি। তাই আমাদের খাদ্য তালিকাকে এমনভাবে সাজানো উচিত যা আমাদেরকে এহেন সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দিবে।

তিসির বীজের অনন্য সব গুনের মধ্যে একটি হল এটি উচ্চ রক্তচাপ কমায়। কয়েকটি গবেষনায়ও প্রমানিত হয়েছে এই তথ্য। তাই যারা এই রোগে ভুগছেন তাদের প্রতিকার হিসেবে এবং যারা সুস্থ আছেন তাদের প্রতিরোগ হিসেবে নিয়মিত ৩০গ্রাম তিসির বীজ খাওয়া উচিত।

 

রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখে

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও কার্যকর খাবার এই বীজ। কারন এটি রক্তে সুগারের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি বেশি কার্যকরী। এতে উপস্থিত ফাইবার রক্তে সুগারের পরিমান হ্রাস করতে সক্ষম। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা যায় তিসির বীজ প্রায় ৮-২০% পর্যন্ত সুগার লেভেল কমাতে পারে।

 

হজমে সহায়তা করে

তিসির বীজে পাওয়া যাবে স্বাস্থ্যসম্মত ফাইবার। আমাদের দৈনিক ফাইবারের চাহিদার প্রায় ৮-১২% পূরন করতে সক্ষম। যা আপনার হজম কার্যকে সহজ ও দ্রুত করবে। এটি পাকস্থলীর কাজকে উন্নত করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে থাকে।

 

ত্বকের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে তিসির বীজ  

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে পারে তিসি বীজ। এর ওমেগা-৩ ত্বককে গ্লোয়িং করে। এটি আপনার মুখে বয়সের ছাপ পরতে দেয় না। এর এন্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিক্যাল ত্বকের বলিরেখা দূর করে। ফলে কোনোরূপ কেমিকেলের ব্যবহার ছাড়াই বেধে রাখতে পারেন আপনার বয়স।

এর আরো একটি গুন হচ্ছে এটি ত্বকের রেস দূর করতে সহায়তা করে। এর ওমেগা-৩ ত্বকের যে কোন প্রদাহ নিরাময় করতে কার্যকর।

হরমোনাল কারনে অনেকের মুখেই ব্রন হয়। এই কারনগুলো এড়িয়ে চলা দায়। তবে প্রতিদিন নিয়ম করে তিসি খেলে কমবে ব্রনের প্রকোপ। এতে মজুত ভিটামিন এ আপনার ত্বকের ম্লান ভাবকে দূর করবে।

 

চুলের পুষ্টিতে তিসির বীজ

চুলকে শক্ত মজবুত ও প্রানবন্ত করতে মূল্যবাম কোন সামগ্রীর প্রয়োজন পরবে না। এক মুষ্ট তিসির বীজ আপনার চুলের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরনে সক্ষম।

এর ভিটামিন ই চুলের ডেমেজ প্রতিরোধ করে এবং রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। তিসির বীজের ওমেগা-৩ চুলকে গোড়া থেকে মজবুত করে। সেই সাথে নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। তিসির বীজ খেলে বা প্যাক তৈরি করে লাগালে চুলের ইলাস্টিসিটি বৃদ্ধি পায়।

আপনার চুলের রুক্ষতা ও ভাঙা আগা নিয়ে চিন্তিত হলে প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন তিসির বীজ। তিসির বীজ মাথার স্ক্যাল্পে পুষ্টি যোগায় এবং খুশকি দূর করে।