গমের আটার উপকারিতা

ভাতের পর বাঙালির সবচেয়ে পছন্দের খাবারটি হচ্ছে রুটি। শর্করা জাতীয় এই খাদ্য হিসেবে রুটি অনেক পুষ্টিতে ভরপুর। তবে অবশ্যই সেটা নির্ভর করছে আপনি সাদা আটার রুটি নাকি লাল অাটার রুটি খাচ্ছেন।

মূলত আটা পাওয়া যায় গম থেকে।  গমের খোসা সহ পিষে লাল আটা তৈরি করা হয় যাকে বলা যায় আন- রিফাইন আটা। আর গমের উপরিভাগের খোসা ছাড়িয় সাদা আটা তৈরি করা হয়। যাকে বলা যায় রিফাইন করা আটা।

বর্তমান সময়ে রিফাইন করা সাদা আটার তৈরি রুটি সহ অন্যান্য খাদ্য পছন্দ করি। সাদা  ধবধবে রুটি চাই নাস্তার টেবিলে। বাদমি দেখতে লাল আটার তৈরি রুটি যেন বেমানান। ব্যাপারটা কি শুধুমাএ রঙের নাকি আমাদের অসচেতনতায় দায়ি এর জন্য?

প্রশ্নটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে চলুন লাল আটার পুষ্টিগুণ এবং সাদা আটার পুষ্টিগুণের পার্থক্যটা দেখে নেয়া যাক।

লাল আটার পুষ্টিগুণ এবং সাদা আটার পুষ্টিগুণ

গমের শস্যের তিনটি লেয়ার রয়েছে। সবচেয়ে উপরে থাকা লেয়ারটির নাম হচ্ছে বান। এতে রয়েছে মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। লাল আটায় যা সম্পূর্ণভাবে পাওয়া যায়। সাদা আটায় যার কোন কিছুই পাওয়া সম্ভব নয়। দ্বিতীয় লেয়ারটি নাম হচ্ছে এনডাসপার্ম যা শস্যের মধ্য অংশটিকে বলা হয়। খোসা ছাড়ানোর পর সাধারণত এই অংশ দেখা যায়। সবচেয়ে ভিতরের লেয়ারটির নাম হচ্ছে জার্ম বা অঙ্কুর। এই অভ্যন্তরীণ অংশ থেকে ভিটামিনস্ , প্রোটিন ও মিনারেল রয়েছে।  

রিফাইন করা আটায় শুধুমাত্র এনডাসপার্ম পাওয়া যায়। আর এতে উল্লেখ্যযোগ্য কোন ভিটামিন পাওয়া যায় না। লাল আটায় উপরোক্ত তিনটি উপাদান পাওয়া যায় সাথে তার পুষ্টিগুণ।

১০০ গ্রাম লাল আটার রুটিতে রয়েছে ৮০% ক্যালরি, ০.৫ গ্রাম ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট ১৫ গ্রাম, ফাইবার ৩ গ্রাম, সুগার ০ গ্রাম,প্রোটিন ৪ গ্রাম।

সাদা আটার ক্ষেত্রে ক্যালরি ৭০%, ফ্যাট ৭৫ গ্রাম, ১২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার ২ গ্রাম,  সুগার ১.৫ গ্রাম, প্রোটিন ৩ গ্রাম। লাল আটার রুটি সর্বাপেক্ষা অধিক পুষ্টি সন্বলিত সাদা আটার রুটি থেকে।

লাল আটায় আরোও রয়েছে ম্যাগানিজ ৬৯গ্রাম, ফসফরাস ১৫ গ্রাম,  থায়ামিন ১৪ গ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ১২ গ্রাম, কপার ৯ গ্রাম এবং জিংক ও  কপার ৭ গ্রাম। সাদা আটা রিফাইন প্রক্রিয়া দিয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় অধেক গুনাবলি নষ্ট হয়ে যায়।

এতো গেল পুষ্টিগুণ এর কথা। আবার উপকারিতার দিক থেকেও লাল আটা সবচেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য সাদা আটার থেকে।

লাল  আটা এবং সাদা আটা উপকারিতা

১) লাল আটায় নিয়মিত খাওয়ার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়।২১০৬ সালের রিভিউ এ্যানালাইজড এক গবেষণায় জানা যায় নিয়মিত লাল আটার রুটি খাওয়ার ফলে ২২% পর্যন্ত হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

২) অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবনতা থেকেও মুক্তি দিবে লাল আটার রুটি। কারণ অতি সমৃদ্ধ খাদ্য আশঁ বা ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে।

৩) লাল আটার রুটি বিশেষভাবে উপকারি ডায়বেটিকদের জন্য।কারণ সাদা আটায় থাকা বাড়তি সুগার ডায়বেটিকদের জন্য ক্ষতির কারণ। লাল আটায় যা নেই বলেই চলে।

৪) যারা ওজন কমানোর দিকে মন দিয়েছেন তাদের জন্যও লাল আটার রুটি। ডায়েটশিয়ানরা ডায়েট চার্টে লাল আটার রুটিকে রাখতে পরামর্শ দেন।

৫) লাল আটায় থাকা ভিটামিন বি কমপ্লেক্স আপনার শরীরকে দিবে ভরপুর এনার্জী সাথে মেটাবলিজম সিস্টেম কেউ উন্নত করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হয়।  

৬) ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় লাল আটা। লাল আটায় থাকা লিগনান নামক উপাদানটি ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে।   

৭) লাল আটার রুটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে ফলে ভবিষ্যতে  ডায়াবেটিস ঝুঁকি কমে যায়। তাছড়া কোলেস্টেরলের মাএা নিয়ন্ত্রণ করে এই আটার রুটি।

সুতরাং বলায় যায় লাল আটার রুটি আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে বেশ সহায়ক। পছন্দ আপনার লাল আন রিফাইন আটা নাকি রিফান করা ধবধবে সাদা আটা থাকবে আপনার নাস্তার টেবিল।