খাঁটি দুধ (Pure Milk)-সর্ষের ভেতর ভূত

চারদিকে ভেজাল আর ভেজাল, ভেজালের সয়লাব। এত ভেজালের ভীড়ে আসল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আর দুধের মত একটি সংবেদনশীল খাবারের বেলায় তো কথাই নেই। যেখানে আমাদের সন্তানের জীবনের ব্যাপার সেখানে পণ্যের মানে আপোষের প্রশ্নই আসে না।

যাকগে অনেক খুঁজে বের করলেন খাঁটি গরুর দুধ। একদম দোয়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাসায় নিয়ে এলেন গরুর দুধ। আহা! সন্তানের স্বাস্থ্য হল নিচিন্ত,কিংবা গর্ভবতী স্ত্রী ও অনাগত সন্তান হলো বিপদমুক্ত।

জ্বী না জনাব, আপনার সন্তান বা গর্ভবতী স্ত্রী এখনও নিরাপদ নন। একটু নিশ্চিত হয়ে নিন খাঁটি দুধের ফুডভ্যালু ও অন্যান্য দিক সম্পর্কে নইলে সরষে ভেতরেই রয়ে যাই ভূত।

ঢাকা শহরে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ লিটার দুধের প্রয়োজন হয়। আর এর বেশির ভাগই আসে ঢাকার আশেপাশের এলাকা থেকে। গ্রামীণ তৃণমূল পর্যায় থাকে দুধ ঢাকায় নিয়ে আসতে আসতে তা নষ্ট হয়ে যায়। কাজেই ঢাকা শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অনেক গরুর খামার। এতে দুধের জন্য যে গরু পালন করা হয় তার অধিকাংশই বিদেশী জাতের। একটি রুম বা শেডের ভেতরে বেধে রেখে বন্দী করে গাদাগাদি করে রেখে গরু পালা হয় দুধ উৎপাদনের জন্য।

 

গরুগুলো স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পর্যন্ত পায় না। বেড়ে উঠে না স্বাভাবিক পরিবেশে। গরুগুলো যেন দুধ উৎপাদনের মেশিন, আর কিছু না।

গেল তো একটি দিক। বছর ঘুরতে দুধেল গরুগুলোর মা হওয়ার সময় আসে। তার প্রয়োজন হয় সঙ্গী বা ব্রিডিং এর। বিদেশী ষাঁড় কোথা পাব? কে এত ঝামেলা করে? তার থেকে অনেক ভাল না খুঁজেপেতে উন্নত জাতের গরুর সংগ্রহীত বীর্য ইঞ্জেকসনের মাধ্যমে গাভীকে দেয়া! কৃত্রিম প্রজননে জন্ম নিল উন্নত জাতের দামি গরু। আসলেই কি তাই? যাকগে গরুর জন্ম নিয়ে আর বেশী কিছু না বলি। আসেন এবার আমাদের যে আধা শংকর জাতের গরু এদেশের আবহাওয়ায় জন্ম নিল তার কি হাল। বেচারা গরু স্বাস্থ্যগত দিক থেকে দেশী গরুর মত সর্বংসহা হতে পারে না। তার জন্য চাই ভিটামিন- ঔষধ আরো কত কি? এত নাজুক গরু বেচারা দের কাছ থেকে বেশী দুধ বের করতে  দেয়া হয় বিশেষ খাবার।

দুষ্ট লোকেরা দেয় গ্রওথ হরমোন, আরো কত কি?

খাঁটি গরুর দুধ সমাচার যেন ভেজাল দুধের মতই হয়ে যাচ্ছে। কি যন্ত্রণা। এ কোন ভূত যে সরষে দানাকেও ছাড়ে না।

রসের গল্পে আনেক কিছুই তো হলো। আজকের মত শেষ দাওটা দিয়ে যাই-

গরু মহাশয় যেহেতু রক্ত মাংসের প্রাণী। তাদের তো অসুখ বিসুখ হতেই পারে। সমান্য কৃমি

থেকে তড়কা রোগ। কৃমিনাশক ঔষধ থেকে গরুকে দেওয়া হতে পারে আত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক। এসব ঔষধের প্রভাব ৭ দিন থেকে ২০ দিন পর্যন্ত থাকে। এ সময় গরুর দুধ খাওয়া ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ। আপনার বচ্চার বা অনাগত শিশুসহ গর্বভতী মার জীবন পড়ে যেতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়। আমরা কতজন তার খবর রাখি? কতজনই বা নিয়ম মেনে চলি। দিন শেষে নিজের লাভে অন্যের গলায় ছুরি কাঁচি চালানোর যে অসীম অশ্লীল আমদের কুরুচি তাতে বিবেক বলে উদ্বায়ী বস্তুটা আলাদীনের জ্বীনের সাথে কোন দরিয়ায় ডুবে মরছে।

খাঁটি দুধ খাঁটি হতে পারেকিন্তু তারপরও বিপদজনক হতে পারে। কারণ Contamination বাইরে থেকে না ভেতর থেকেও হতে পারে । প্রকৃতির যত কাছে থাকা যায় ততই মঙ্গল, প্রকৃতির বাইরে গেলে একটা সময় সে শোধ না নিয়ে ছাড়ে না। সময় থাকতে আমদের প্রাকৃতিক কৃষি বা organic farming শুরু করা উচিত।

এখন সরষে তে ভূত নেই বরং ভুতের ভেতরেই সরিষা। এই গোটা রম্য জীবন ঘনিষ্ট অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। বৈজ্ঞানিক অভিসন্দর্য নয়। কারো স্বার্থে আঘাত লাগলে তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ,কাকতালীয়। আসুন সচেতন হই। খাঁটি দুধ  খাঁটি মানে পুষ্টিতে গ্রহণ করি। সবাইকে নিরাপদে রাখি, নিজেরাও নিরাপদে থাকি।