উলটকম্বলের পরিচিতি ও ভেষজ গুণাবলি:

ওলটকম্বল  প্রায় ২ মিটার উচ্চতার বৃক্ষ বিশেষ। পাতার উপর পৃষ্ঠ রোঁয়া বিশিষ্ট। এর ডাঁটা ও ছাল পানিতে কচলালে বিজল সৃষ্টি হয়। ফুল কালচে লাল বর্ণের। ফল প্রথমে সবুজ, পাকলে কালো দেখায়। ফলের ভিতর অসংখ্য রোঁয়া ও কালী জিরার মত অনেক বীজ থাকে।

প্রচলিত নামঃ ওলটকম্বল

ইউনানী নামঃ ওলট কম্বল

আয়ুর্বেদিক নামঃ ঔলট কম্বল

ইংরেজি নামঃ Devil’s Cotton

বৈজ্ঞানিক নামঃ Abroma augusta Linn.

পরিবারঃ Sterculiaceae

প্রাপ্তিস্থানঃ বাড়ীর আঙ্গিনায় বা বাগানে লাগানো হয়। চট্রগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহের বনাঞ্চলে এমনিতেও জন্মাতে দেখা যায়।

রোপনের সময় ও পদ্ধতিঃ জুলাই-আগষ্ট মাসে বীজ সংগ্রহ করে কিছুটা রোদে শুকিয়ে এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বীজতলায় লাগাতে হয়। ছায়া সহ্য করতে পারে বিধায় অন্য গাছের নিচে সহজেই উলটকম্বল চাষ করা যায়। বেলে-দোআঁশ মাটি চাষের জন্য উপযুক্ত। মাটি, গোবর ও ভিজা কাঠের ভুষি ২: ১: ১ অনুপাতে মিশিয়ে বীজতলা তৈরি করতে হয়। বপনের আগে বীজ দু’ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে নিলে বেশী পরিমাণে বীজ অঙ্কুরিত হয়।

রাসায়নিক উপাদানঃ পাতায় ও শাখার ছালে স্টেরল ও অন্যান্য গ্লাইকোসাইড এবং মূলের ছালে অ্যালকোহল, স্টেরল, গঁদ ও ম্যাগনেসিয়াম লবণ বিদ্যমান।

ব্যবহার্য অংশঃ পাতার ডাঁটা, মূলের ছাল, ক্ষেত্র বিশেষে সমগ্র উদ্ভিদ।

গুনাগুনঃ রজঃকৃচ্ছতা, প্রসাবে জ্বালা-যন্ত্রনা, প্রদর, বিলম্বে ঋতুদর্শন, জরায়ুর স্থানচ্যুতি ও প্রমেহ।

বিশেষ কার্যকারিতাঃ রজঃকৃচ্ছতা, প্রসাবে জ্বালা-যন্ত্রনায় বিশেষ কার্যকর।

রোগ অনুযায়ী ব্যবহার পদ্ধতিঃ

রোগেরনামঃ রজঃকৃচ্ছতা
ব্যবহার্য অংশঃ মূলের ছাল
মাত্রাঃ ৬০ গ্রাম
ব্যবহার পদ্ধতিঃ প্রতিবারে ২৫০ মিলি পানিতে জ্বাল দিয়ে অর্ধেক হলে ছেঁকে সকালে ও বিকালে সেব্য।

রোগেরনামঃ প্রসাবে জ্বালা-যন্ত্রনায়
ব্যবহার্য অংশঃ পাতার ডাঁটা
মাত্রাঃ ৩-৪ টি
ব্যবহার পদ্ধতিঃ ২৫০ মিলি পানিতে কচলিয়ে প্রয়োজনে সামান্য চিনি মিশিয়ে সকাল-সন্ধ্যায় সেব্য।

রোগেরনামঃ প্রদর-এ
ব্যবহার্য অংশঃ মূলের ছালচূর্ণ
মাত্রাঃ ২৫০ মিলি
ব্যবহার পদ্ধতিঃ সকাল-সন্ধ্যায় খালি পেটে পানিসহ সেব্য।

রোগেরনামঃ জরায়ুর স্থানচ্যুতিতে
ব্যবহার্য অংশঃ তাজা মূলের ছাল
মাত্রাঃ ৫ গ্রাম
ব্যবহার পদ্ধতিঃ পিষে নিয়ে পানিতে মিশিয়ে সকাল-সন্ধ্যায় সামান্য চিনি সহ সেব্য।

সতর্কতাঃঅধিক সেবনে এলার্জি দেখা দিতে পারে।