আপেল সিডার ভিনেগার এর প্রমাণিত সেরা উপকারিতা

আপেল সিডার ভিনেগার এর প্রমাণিত সেরা উপকারিতা

 

আপেল সিডার ভিনেগার ( Apple Cider Vinegar in Bd) এর গুনাগুনের কারনে অন্যান্য ভিনেগার থেকে আলাদা। আমাদের দেশে এটি তেমন পরিচিত নয়। যারাও বা চিনেন তারা কেবল রান্নার উপকরন হিসেবে জানেন । তবে কয়েক শতাব্দী ধরে ভিনেগার প্রতিকার হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।  প্রাচীন গ্রীকরা এর সাহায্যে  ক্ষতের চিকিৎসা করত। সেই থেকে আজ অবধি রান্না থেকে শুরু করে রূপচর্চা সব জায়গায় এর পদচারণা।

আপেল সিডার ভিনেগার দুইধাপে গাজঁন প্রক্রিয়ায়  তৈরি করা হয়-

প্রথমে, আপেল পিষে রস বের করে তার মধ্যে ব্যাকটেরিয়া ও ইষ্ট যোগ করা হয়,যা শর্করাকে কোহলে রূপান্তর করে। দ্বিতীয় ধাপে আবারও ব্যাকটেরিয়া দ্বারা গাঁজন সম্পন্ন করা হয়। এপর্যায়ে কোহল চুড়ান্ত ভিনেগারে পরিনত হয়।

 

আপেল সিডার ভিনেগার এর পুষ্টি কথণ

আপেল সিডার ভিনেগারে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম , ফসফরাস এবং পটাসিয়াম । এতে নেই কোনো প্রকার চর্বি ও আমিষ |

বহু রোগের প্রতিকার হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে এই ভিনেগার। চলুন জেনে নিই খাদ্যাভাসে আপেল সিডার ভিনেগার যুক্ত কারা উপকারিতা-

ওজন কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার

বায়োলজিক্যাল বা খাদ্যাভাস হতে পারে স্থূলতার কারন। স্থূলতা-যা হতে পারে হাজারো  রোগের হেতু। তাই বরাবরই মেদ নিয়ে নানান তোরজোড়। তবে ফলাফল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শূন্য। আপনি যদি মেদ নিয়ে চিন্তিত হয়ে থাকেন তবে নিশ্চিতে বেছে নিন আপেল সিডার ভিনেগার। এটি আপনার ক্ষিধে লাগার প্রবণতাকে কমিয়ে দেয়। তাই স্বাভাবিক কারনেই ওজন কমতে শুরু করে। কিছু গবেষণায় দেখা যায়, আপেল সিডার ভিনেগার তল পেটের চর্বি কমাতেও সহায়তা করে। তবে কাঙ্খিত ফলাফল পেতে অবশ্যই ৩মাস নিয়মিত আপেল সিডার ভিনেগার গ্রহন করুন।

সুন্দর স্বাস্থ্যের জন্য আপেল সিডার ভিনেগার ( Apple Cider Vinegar in Bd) : 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখে

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে অ্যাপেল সিডার ভিনিগার খাওয়া শুরু করলে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়। টাইপ-২ ডায়াবেটিস এর জন্য আপেল সিডার ভিনেগার বেশ কার্যকর। এই ভিনেগার খাবারের পর রক্তে শর্করার পরিমাণ হ্রাস করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে টাইপ 2 ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ভিনেগার রক্তে শর্করার এবং ইনসুলিনের মাত্রাকে উন্নত করে। ভিনেগারের এসিটিক অ্যাসিড এমন এনজাইমকে ব্লক করে যা আপনাকে স্টার্চ হজমে সহায়তা করে।

হৃদযন্ত্রের সুস্থতায়

অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। তার সাথে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে রক্তচাপ এবং ট্রাইগ্লিসারাইডও। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী যেসব মহিলারা সালাদে খাওয়ার সময় ভিনেগার মিশিয়ে নেন তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি সবচেয়ে কম। তাই সুস্থ হার্টের নিশ্চয়তায় রোজকার খাদ্য তালিকায় যুক্ত করে নিন আপেল সিডার ভিনেগার।

ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়

আপেল সিডার ভিনেগার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়- বিভিন্ন গবেষণায় প্রায়শই এমন দাবি করা হয়ে থাকে।

একটি টেস্ট-টিউব গবেষণায় দেখানো হয়েছে, ক্যানসারের কোষ হত্যায় ভিনেগার কাজ করে।আবার কিছু পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় বলা হয়েছে, খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার কাজ করে। তাই এমন মরণঘাতী রোগ থেকে বাঁচতে খাদ্যাভাসে জুড়ে নিন আপেল সিডার ভিনেগার।

 

ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে

ভিনেগার ব্যাকটিরিয়াসহ প্যাথোজেন মারতে সহায়তা করতে পারে।

পরিষ্কারক এবং জীবাণুনাশক হিসেবে অনেকেই ভিনেগার ব্যবহার করে আসছে। আধুনিক ওষুধের জনক হিপোক্রেটাস ২০০০ হাজারেরও বেশি বছর আগে ক্ষত পরিষ্কার করতে ভিনেগার ব্যবহার করেছিলেন।

ফলমূল বিষমুক্ত করতে

বাজার থেকে কিনে আনা ফলমূলে কম বেশি ফরমালিন ও এর মত বিষাক্ত পদার্থ থাকে। তাই খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই এসব ফলমূল জীবাণু মুক্ত করা করা জরুরী অন্যথায় ভুগতে হতে পারে নানান শারীরিক জটিলতায়।  এক্ষেত্রে কাজে আসবে হাতের কাছে থাকা আপেল সিডার ভিনেগার। যা কাজ করবে জীবাণুনাশক হিসেবে। এটি বিভিন্ন ক্ষতিকার ব্যাকটেরিয়া পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।

 

সৌন্দর্যের জন্য আপেল সিডার ভিনেগার ( Apple Cider Vinegar in Bd)

দাঁতের হলদে ভাব দূর করতে

সুন্দর একটি হাসি হতে পারে মনোযোগ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে দাঁতে জমে থাকা দাগ ও হলদে ভাব তৈরি করবে সম্পূর্ণ বিপরীত প্রতিক্রিয়া। আপেল সিডার ভিনেগার দাঁতের  হলদে ভাব দূর করতে সহায়তা করে ।

 

মুখের দুর্গন্ধ কমাতে

প্রিয়জনের সাথে কথোপকথন হোক বা বন্ধুদের আড্ডায়, আপনার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য মুখের দুর্গন্ধই যথেষ্ট। মূলত মুখের মধ্যে বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রমণের ফলে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। ভিনেগার মুখের জীবাণুগুলো মেরে ফেলে ফলে দুর্গন্ধ দূর হয়। নিয়মিত ভিনেগার দিয়ে গার্গেল করলে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

 

ব্রণের উপদ্রব কমায়

ত্বকের উপর নানান ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারনে ব্রণের প্রকোপ বেড়ে যায়। এই বিশেষ ধরনের ভিনিগারটিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যাসেটিক অ্যাসিড।

আপেল সিডার ভিনেগার এর সাথে পানি মিশিয়ে কটন প্যাড দিয়ে ব্রণের স্থানে লাগিয়ে ৫-১০মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত লাগিয়ে পেয়ে যাবেন আশানুরূপ ফলাফল।

 

ট্যান দূর করে

বৈশ্বিক উষ্ণতার এ যুগে বাইরে বের হলেই রোদের দাবদাহে স্কিন পুড়ে যায়। তবে ট্যান নিয়ে আর দুশ্চিন্তা নয়। ট্যান দূর করবে আপেল সিডার ভিনেগার। পানির সাথে মিলিয়ে আলতোভাবে লাগিয়ে নিতে পারেন ত্বকে। এতে ত্বকে প্রদাহও কমে যাবে।

 

চুলের যত্নে

প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে আপেল সিডার ভিনেগার। এটি চুলকে কোমল করার সাথে সাথে স্ক্যাল্পে সুরক্ষা নিশ্চিত করে।ফলে খুশকির মত সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। এটি নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে এবং চুলের গোড়া মজবুত করে ফলে চুল পরা কমে।

 

আপেল সিডার ভিনেগার এর ব্যবহার

 

যেহেতু আপেল সিডার ভিনেগার এসিডিক তাই দৈনিক ১-২ টেবিলচামচের বেশি গ্রহন করা যাবেনা এবং অবশ্যই সমপরিমাণ বা দ্বিগুণ পরিমান পানি মিশ্রিত করে নিতে হবে।

 

কিভাবে সংরক্ষণ করবেন?

 

আপেল সিডার ভিনেগার সংরক্ষণ করতে চাইলে তাপ ও সূর্যের আলো থেকে দূরে একটি শীতল জায়গায় রাখুন।

 

 

 

 

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: