আগরের পরিচিতি ও ভেষজ গুণাবলি:

আগর শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট মাঝারী উচ্চতার বৃক্ষ। গাছের ছাল পাতলা ও বহিরাবরণ খস্‌খসে। কাঠ নরম ও সাদা বর্ণের। পাতা সরল ও একান্তর, পাতলা ৮-১০ সে.মি. চওড়া এবং অগ্রভাগ ক্রমশঃ সরু। একই পুষ্পদন্ডে সাদা বর্ণের অনেকগুলো ফুল হয়। ফল নরম, ২-৩ সে.মি. লম্বা। জুন মাসে ফুল ও আগস্ট মাসে ফল হয়। যে আগর কাঠ তাড়াতাড়ি পানিতে ডুবে যায় টা উৎকৃষ্ট। বিশেষ ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হলে কান্ডাভ্যান্তরে বিশেষ তেল-রজনীয় পদার্থ জমা হয় যা আগর হিসেবে পরিচিত। আগর অত্যন্ত সুগন্ধ বিশিষ্ট, এর প্রতি কেজির মূল্য মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় দুই লক্ষ টাকা।

প্রচলিত নামঃ আগর

ইউনানী নামঃ উদ হিন্দী

আয়ুর্বেদিক নামঃ অগুরু

ইংরেজি নামঃ Eagle Wood

বৈজ্ঞানিক নামঃ Aquilaria malacensis Lamk. (Aquilaria agallocha Roxb.).

পরিবারঃ Thymeliaceae

প্রাপ্তিস্থানঃ সিলেটের বনাঞ্চলে পাওয়া যায়।

রোপনের সময় ও পদ্ধতিঃ পাহাড়ী ঢালু অঞ্চলে কংকরময় মাটিতে এটি ভাল জন্মে। সাধারনতঃ বীজের মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা হয়। বনাঞ্চলে গাছের নিচে এমনিতেই চারা গজায় যা লাগিয়ে সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়।

রাসায়নিক উপাদানঃ কান্ডের মূল উপাদান এগারোস্পাইরাল সমৃদ্ধ একটি উদ্দায়ী তেল। এতে টার্পিন ও অ্যালকোহল জাতীয় দ্রব্যও বিদ্যমান।

ব্যবহার্য অংশঃ আগর কাঠ ও তেল।

গুনাগুনঃ হৃদপিণ্ড ও মস্তিস্কের শক্তিদায়ক। প্রফুল্ল আনয়নকারক। স্নায়ুবিক শক্তিবর্ধক, সুগন্ধদায়ক, পাচক, মুখের দুর্গন্ধনাশক এবং উদ্দীপক।

বিশেষ কার্যকারিতাঃ হৃদপিণ্ড ও মস্তিস্কের শক্তিদায়ক এবং স্নায়ুবিক শক্তিবর্ধক।

রোগ অনুযায়ী ব্যবহার পদ্ধতিঃ

রোগেরনামঃ হৃদপিণ্ড ও মস্তিস্কের দুর্বলতায়
ব্যবহার্য অংশঃ কাঠচূর্ণ,
মাত্রাঃ ২-৩ গ্রাম
ব্যবহার পদ্ধতিঃ দুখসহ দৈনিক ১-২ বার সেব্য।

রোগেরনামঃ স্নায়ুবিক শক্তি ও যৌন দুর্বলতায়,
ব্যবহার্য অংশঃ কাঠচূর্ণ,
মাত্রাঃ ৩-৪ গ্রাম,
ব্যবহার পদ্ধতিঃ ৩-৪ চা চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২ বার সেব্য।

রোগেরনামঃ বাত ব্যথায়,
ব্যবহার্য অংশঃ তেল,
মাত্রাঃ প্রয়োজনমত,
ব্যবহার পদ্ধতিঃ আক্রান্ত স্থানে দৈনিক ২ বার হালকা হাতে মালিশ করতে হবে।